Tanmay Mukherjee

উৎসবের শহর

কোলকাতা উৎসবের শহর।

 
 

কলকাতাইয়া ভালোবাসা 

 কালীঘাট থেকে কালীঘাটা। কালীঘাটা থেকে কলিকাতা। তারপর ক্যালিকাটের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কলিকাতা থেকে ক্যালক্যাটা। গপ্প বটে। ইতিহাস আছে, অ্যাকশন আছে, বাতেলা আছে, সাহেব-সুবোর রোয়াব আছে। বড়বাজারের ঘিঞ্জি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলেন বরদাচরণ। 

 
 

ছোটমাম্যাক্সিমাম

ছোটমামাঃ ক্যালক্যাটা ক্রমশ ক্যাডাভ্যারাস হয়ে যাচ্ছে পচা।

 
 

কোলকাতা Goodies

গুডিজ্‌’য়ের যুগ। আই-পি-এল গুডিজ্‌ অর্থাৎ আই-পি-এল ছাপ্পা মারা টিশার্ট, রিস্ট ব্যান্ড, তাবিজ, ছাতা এমন কত কিছু। তেমনি ফুটবল ক্লাবের গুডিজ্‌, পুজো গুডিজ্‌, অমুক সিনেমার গুডিজ্‌ , এমন কি রাজনৈতিক দলেরও গুডিজ্‌ বিলি করার চল হয়েছে। বিপণনের ভারি ধারালো অস্ত্র, পাবলিক নাকি বেশ খায় এমন সব গুডিজ্‌ মোয়া।

 
 

কলকাতার ফুচকা

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে কি না জানিনা। তবে কলকাতার ফুচকা অন্য কোথাও সহজে জুটবে না, সেটা নিশ্চিত। গন্ধরাজ লেবুর রস ছড়িয়ে পৃথিবীর অন্য কোথাও ফুচকা পরিবেশন হয় না বলেই আমার এই বিশ্বাস। নুন,কাঁচা লংকা বাটা, সেদ্ধ ছোলা, অল্প তেঁতুল জল, অল্প কুচোনো পেঁয়াজ দিয়ে দরদ দিয়ে মাখা আলু সেদ্ধ। চুরমুরের বুক চিরে তাঁর গলা পর্যন্ত আলু মাখা ভরে, তেঁতুল জলে টইটুম্বুর করে, শাল পাতার ভাঁজে ছেড়ে দেওয়া। ফুচকা থাকতে পি সি সরকার’কেই বাংলার সেরা ম্যাজিশিয়ান বলার কোন মানে হয় না।

 
 

ফুটপাতুরি

পৃথিবীতে কেউ যদি অন্নপূর্ণা হয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন কলকাতার ফুটপাথ। কি নেই তাঁর বুকে ? গৃহস্থালি, উনুন, আড্ডা, দোকান-বাজার, যাবতীয় সমস্ত কিছু।

 
 

ছয়লাপ

ডিয়ার দুর্গা দি,

 
 

ছয়লাপ | নবমীর ব্যাপার-স্যাপার

বাবলামামা আমেরিকা থেকে ফিরেছে। ঠিক ফেরেনি। মাসদুয়েকের ছুটিতে ঘুরতে এসেছে নিজের পুরনো পাড়া। গ্রাজুয়েশনের পর সাঙ্ঘাতিক এক স্কলারশিপ নিয়ে দেশ ছাড়া হয়েছিল, তারপর কুড়িটি বছর কোনও পাত্তা নেই। বাপ-মা সমেত ওদেশে গেঁড়ে বসেছে বাবলামামা। মেম বিয়ে করে ওয়াশিংটনে চমৎকার সংসার করছে। তিনি এখন সেদেশের এক তাবড় প্রফেসর। তো এহেন মামা এতদিন পর পুজোর সময় পুরনো পাড়ায় ফিরেছে; এটা একটা মস্ত বুলেটিন তো বটেই।

 
 

ছয়লাপ | সপ্তমীর ব্যাপার-স্যাপার

পুজো শুরু। ঠিক যেমন ভাবে শুরু হওয়া উচিত ছিল। পাড়ার মণ্ডপ এক ধারে শ্রীকান্ত আচার্য আর অন্য ধারে বলিউডি লে হালুয়া ফায়ার করে চলেছে।মাঝে সাঝে ঢাকের ইন্টারাপ্‌শন। সকালের এই সময় আমার পুজো কমিটির হয়ে ভলেন্টিয়ারগিরি করার কথা; খদ্দরের পাঞ্জাবি পরে। কিন্তু আমি বসে ঘরে; পায়জামা আর স্যান্ডো গেঞ্জিতে। মন সেন্টিমেন্টে ভিজে জ্যাবজ্যাবে হয়ে রয়েছে। সকাল থেকে মনের দুঃখে তিন কাপ চা খেয়ে ফেলেছি। ফুলকো লুচি মিইয়ে গেল, আলুর দম আলগা পড়ে রইলে কিন্তু মুখে তুলতে ইচ্ছে হল না। বিস্বাদ। ক্ষমতা থাকলে কবিতা লিখে ফেলতে পারতাম এমন দুঃখ। ইয়ে পুজো ঝুটা হ্যায়।

 
 

ছয়লাপ | পঞ্চমীর ব্যাপার-স্যাপার

টেরিফিক ব্যাপার। কোলকাতা শহরের পলিউশন বুকের মধ্যে যতই কার্বন ঝড় তুলুক, মনের মধ্যে যে অনবরত শিউলি ঝরে চলেছে। পাঁজরের আনাচে কানাচে শরতের মিঠে রোদ্দুর। ট্যাগোরের ট্র্যাডিশন বয়ে চলা ইজ নট চাইল্ড্‌জ প্লে। মেহেনত লাগে।

 
 

ছয়লাপ | তৃতীয়ার ব্যাপার-স্যাপার

পুজো ইজ নিয়ার। কত কিছু বাকি রয়ে গেল। একটা সবুজ প্রিন্টের হাফ পাঞ্জাবি কিনতে গড়িয়াহাট যাব যাব করেও সময় বের করতে পারলাম না। বউ’এর শাড়ি আর বস’য়ের ফাইল’য়ের পেছন পেছন ছুটেই জিন্দেগী কড়কে গেল।

 
 

ছয়লাপ | মহালয়ার ব্যাপার-স্যাপার

মহালয়া। সলিড ভাবে ডেভেলপ করতে হবে। এক্কেবারে মার কাটারি লেভেলে জেগে উঠবো। তবেই না বাঙালি, তবেই না সোনার বাংলা। ছেলেবেলায় মনে আছে দাদু মহালয়ার আগের রাতে মন দিয়ে জোগাড় করে রাখতেন:

 
 

বাস-মতি

আমার মিনিবাস ভারি পছন্দের। একটা ছিমছাম ব্যাপার। সরকারি বাসের মত আলখাল্লা নয়, প্রাইভেট বাসের মত বেঢপ নয়, বাতানুকূল বাসের মত বুর্জোয়া নয়। রাস্তা দিয়ে এমন চনমনে মেজাজে চলা ফেরা করে যে হালকা ভালো না বেসে লাভ নেই। চেহারাতে একটা বেশ ইস্টবেঙ্গল গোছের ব্যাপার আছে।

 
 

বিগ-বস্‌ এবং কলকাতা

ধরুন, কলকাতা শহর যদি বিগ্‌বস’য়ের ঘর হত। ঘরের সদস্যরা হতেন এই শহরেরই ছোট-বড় রকমারি টুকরো গুলো। বিগ্‌ বসের কণ্ঠস্বর হিসেবে চার্ণকের ভুত বা মহাকাল’কে প্রক্সি দিতে হত অবিশ্যি। গোটা খেল চলত হাজার দুই বছর জুড়ে।

 
 

নিত্যযাত্রী কথা

" কেউ ক্রিকেট খেলেন, কেউ রাইটার্সে ফাইল-বাজি করেন, কেউ গীটার বাজিয়ে আহা-উঁহু করেন, কেউ ভোটে দাঁড়ান, কেউ টিউশনি পড়ান। আমি করি ডেলি-প্যাসেঞ্জারি। ওইটাই হল আমার প্রফেশন বুঝলেন", সন্ধ্যে ছটা দশের আপ বর্ধমান লোকালে সদ্য আলাপ হওয়া দিলীপবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। আলাপের শুরু খবরের কাগজ আদান-প্রদান দিয়ে। দিলীপবাবুর কোথায় না হেসে পারলাম না।

 
 

এপার-ওপার

তখন ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। কোনও এক কাজ নিয়ে ঢাকুরিয়া মোড়ে। কাজের দিনে ভর দুপুরে রাস্তা পার হওয়া চাট্টিখানি বাত নয়। রাস্তার ওপর দিয়ে অবিশ্যি ফুট-ব্রিজ চলে গিয়েছে। কিন্তু ফুটপাথ ও ফুট-ব্রিজ; বাঙ্গালির মত চমকিলা জাতির জন্যে নয়। একটু ছিঁচকে এডভেঞ্চার না থাকলে লাইফ যে একাদশী।

 
 

খুচরো তফাৎ

কলেজ স্ট্রীটে ঘুর-ঘুর করছি সস্তায় পুরনো বই সটকাবার তালে। জুন মাসের বিকেল কিন্তু সদ্য বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় চনমনে হাওয়া বইছে। মেজাজ শরিফ। জলের দরে খান দুই গপ্পের বই ব্যাগস্থ করে ফেলেছি। ভাবলাম বই ঘাঁটাঘাঁটি আলতো থামিয়ে রেখে একটু চা-টা খেয়ে নেওয়া যাক। মেডিক্যাল কলেজের উল্টো দিকে; ফুটপাথের একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে বললাম-

 
 

< Back to List

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map