M3 Views

দৃষ্টিপাত: টুথপেস্টের মডেল সন্ধান

অমিয় চৌধুরী  | August 8, 2013

বেশ কিছুদিন থেকে মনে হচ্ছিল টুথপেস্ট নিয়ে লিখলে কেমন হয়! টুথপেস্ট নিয়ে এত বিজ্ঞাপন দেখি টেলিভিশনে প্রতিদিন। বিরক্তও হই। উপায় নেই দেখতেই হয় বাংলা বা ইংরেজি চ্যানেলে।

এমন কিছু লিখে ফেললে যদি ওরা মামলা ভরে দেয়! বিচার বিভাগের দাপট এইকালে এমন বেড়ে গিয়েছে, কারোর কোনও কিছু মনঃপূত না হলেই হাইকোর্টে চলে যাচ্ছেন। আবার এমনও দেখি হাইকোর্ট এ মামলা চলা-কালীনই কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্ট এ চলে যাচ্ছেন। অতএব থামতে হয়। অবশ্য টুথপেস্ট নিয়ে লিখতে ওগুলোর বিজ্ঞান ভিত্তিক উপাদান গুলোর হাল হকিকত কিছু জেনে নিতে হয়। তা অবশ্যই জানিনা। অতএব এমন কিছু লেখা যায়, যাতে করে একটা ব্র্যান্ড টুথপেস্টের বিজ্ঞাপন এর খোঁজ দিয়ে দেওয় যায়। মধ্যবিত্ত(না ভদ্রলোক না ছোটলোক) মানসিকতা নিয়ে নিজের জন্য কিছু ধান্দা ভাবাই ভাল। একটা বিশেষ ব্র্যান্ডের পেস্ট ব্যাবহার করলে দাঁতের শুভ্রতা অন্যান্যও ব্র্যান্ডের তুলনায় এক শেড বেড়ে যায়। ব্যাপারটা মন্দ নয়। তবে প্রতি মুহূর্তে একই মানুষের দাঁতের ওপরের পাটি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন দর্শকরা। কেননা ওখানে তো সেই কোনও বিশেষ মহিলার মুখটাও দেখানো বা বলা মুশকিল। দর্শকবৃন্দ সেই সুন্দর মহিলাদের মুখটা দেখেন না, তার দাঁতগুলো দেখেন। টুথপেস্টের বিজ্ঞাপনে সবটুকু না দেখিয়ে সুন্দর দাঁতের একপাটি দেখালে মানুষ বেশি আকর্ষিত হবেন। অবশ্য কেউ কেউ এমনটা ভেবে নিতে পারেন যে দুইপাটি দাঁতের বিজ্ঞাপনে আসলে একজনের ভেংচি কাটা দেখানো হচ্ছে। অবশ্য সেই ক্ষেত্রে মুশকিল হতে পারে। এই ক্ষেত্রে দাঁতের একটি মাত্র শক্তি দেখানোই শ্রেয় এবং সেই ক্ষেত্রে ওপরের শক্তি দেখানোর ঝুঁকি কম। মানুষ এখন আর ভাবার সুযোগ পাবেন না যে একপাটি দাঁত দিয়েও ভেংচি করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার এক মাদাম টি.এন.শেসনের কথা বলা যায়। এখন দৃষ্টিপাত পশ্চিমবঙ্গের প্রতি। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ১৯৯৩ থেকে শুরু করে ২০০৮ সাল অবধি রাজ্যে নির্বাচন কমিশনার মনোনীত হতেন তিন বছরের জন্য।২০১০ সালে ৮০টি মিউনিসিপ্যাল এবং কয়েকটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বামফ্রন্ট বেদম ভাবে হেরে যায়। তখনি তাদের বোধদয় হল ২০১১ তে তারা ক্ষমতাচ্যূত হবে। রাজনীতি করতে হয় দীরঘকালীন পরিকল্পনা নিয়ে। অতএব এমন একজন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মনোনীত করতে হবে যিনি অদূর ভবিষ্যতে কিছু মিউনিসিপ্যাল এবং বিশেষ করে ২০১৩ সালে বামফ্রন্ট বিশেষত সিপিএম-কে কিছু অক্সিজেন যোগান দিতে পারেন। সেইমতই ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত আইন সংশোধন করে কমিশনার এর পরমায়ু ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে করা হল ৬ বছর। অবসর গ্রহনের কয়েক মাস আগে বর্তমান কমিশনার-এর স্থায়িত্ব করে দেওয়া হল ৬ বছরের জন্য। যত গণ্ডগোলের মূল ঠিক এইখানেই। পরিবর্তনের সরকার এলেও আমাকে তারা কিছুই করতে পারবেনা। আমিই সে, নির্বাচনের সময় যার দাপটেই বামফ্রন্ট ছাড়া আর যে কোনও সরকার এলেও আমি স্বাধীন এবং আমার কথা মত সরকার কে চলতে হবে। বর্তমান রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডের জোরটা ঠিক এইখানেই।

সরকার যা চাইবে সেইমত নির্বাচন কমিশন চলতে বাধ্য নয়। অথচ নির্বাচন কমিশনকে চলতে হয় সরকারি টাকায় - যা নাকি জনগণের কাছ থেকে আদায়ীকৃত টাকায়। এই দিক থেকে মীরা পাণ্ডেজি খোদ ভারতের মূখ্য নির্বাচন কমিশনের সমকক্ষ। সরকার জনগণের কাছে সব ব্যাপারে দায়বদ্ধ। নির্বাচন কমিশনার এর দায়বদ্ধতার কোনও কারণ নেই। এইখানে ভারতের মূখ্য নির্বাচন কমিশনার দাপুটে টি.এন.শেসন সাহেবের উদাহারণ টানা যায়। মনে রাখা প্রয়োজন মীরার ভজন কিন্তু দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে যেটা নাকি কোন সরকারের সাথে সীমা ভেঙ্গে দিতে পারে। ভারতের মূখ্য নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। টি.এন.শেসন সাহেবের ডানা ছাঁটতে তাই সরকারি আদেশে আরও দুই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়। তবু মূখ্য নির্বাচন কমিশনার টি.এন.শেসন যখন নিজের মতামত অন্য দুজন কমিশনার এর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছিলেন- স্বাভাবিক ভাবেই তিনজনের মধ্যে তিনই সভাপতি- তখন রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষভাবে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দরবারে ছোটেন। মনে রাখতে হবে শেসন কিন্তু কোর্টে যাননি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা এবং পদমর্যাদা রক্ষা করতে। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলে- নির্বাচন কমিশনের যে কোন সিদ্ধান্ত সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে স্থির হবে। অর্থাৎ যিনি সভাপতিত্ব করবেন তিনি যদি অপর দুজন সাংবিধানিক নন, এক হয়ে মূখ্য-নির্বাচন কমিশনার কে অপর দুজনের মতামত গিলতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়কে বলা যায়- "লজিক্যাল ফ্যালাসি"। এটা বুঝেও একদা জাঁদরেল আমলা শেসন সুপ্রিম কোর্টে যাননি, রিভিউ পিটিশন নিয়ে। সোভিয়েত রাশিয়া এবং চীনে কমিউনিস্ট শাসন দীর্ঘতর হলেও, পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট এর অস্তিত্বও কম ছিল না। এখনকার নির্বাচন কমিশনার ধরেই রেখেছেন বর্তমান সরকারের পরমায়ু বেশিদিনের নয়। অতএব এই সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষণে অপারগ প্রতিপন্ন করতে, আদাজল খেয়ে লেগে রয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। সরকারের কোনও কথায় কর্ণপাত না করে ফাইল বগলে করে টিভি ক্যামেরার সামনে ওর ওপর দন্তপঙ্‌ক্তি দেখিয়ে নিজের সাংবিধানিক মর্যাদা ভুলে - এই ছুটছেন বড় উকিলের কাছে তার পর ছোটো উকিলকে ব্রিফ বুঝিয়ে দিতে। রাজ্য সরকার কিন্তু কোর্টে যায়নি। তাকে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যেতে হয়েছিল। রায় পছন্দ না হওয়ায় ছুটলেন সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। এমনকি ফল ঘোষণার দিনও পশ্চিমবঙ্গের অপ্রতিরোধ্য কমিশনার একক ভাবে ঠিক করে নিয়েছেন, আর যখনই কোর্টে মামলা শুরু হয়েছে উনি ওর ওপর পঙ্‌ক্তি দন্ত কৌমুদী বিকশিত করে কোর্ট রুমের শেষ বেঞ্চিতে বসে থেকেছেন। তাই মনে হতেই পারে পাণ্ডেজি ওপর পঙক্তির দাঁত টুথপেস্টের ভাল বিজ্ঞাপনী বিষয় হতে পারে। ধবধবে সাদা, যদিও বয়সের চাপে কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে গেছে।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map