M3 Views

ভারত নির্মাণঃ আসলে বিজ্ঞাপনের বহরে দেশটাকে খাদের কিনারায় নিয়ে আসার প্রযুক্তি

অমিয় চৌধুরী  | September 18, 2013

অনেকদিন আগে একটা সিনেমা দেখেছিলাম। অতীতের শ্রেষ্ঠ সিনেমাগুলোর একটা। বিশিষ্ট তো বটেই। অতি আধুনিক স্যুট বুট টাই পরা- যদিও একটু চালিয়াত – এক পার্শ্ব অভিনেতা বলেছেন- পাবলিসিটি প্রথম, পাবলিসিটি দ্বিতীয় এবং পাবলিসিটিই শেষ। অর্থাৎ প্রচারের আলোয় তিল কে তাল করা শক্ত নয়। মানুষের স্মৃতির মাঝে মাঝে বিস্মরণ ঘটে। বেঠিককে তখন অবশ্যই ঠিক বলে মনে হয়। একটা কথা বারবার শুনলে সেই কথা এবং সেই কথার অভ্যন্তরীণ গল্পটা মানুষের মনে গেঁথে যায়। গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনও সরকারের প্রচারকে অবশ্যই গোয়েবলীয় ভাবা হয় না বা অরওয়েল-এর ১৯৮৪ নামক বইয়ের কথাও মনে পড়িয়ে দেওয়ার কথা নয়। কেননা, এখানে বছর বছর স্মৃতির গর্ভে কোন কিছু ঢোকানো যায় না। তবে পরিসংখ্যানকে নিজের প্রয়োজনে উদ্দেশ্য সাধনের কাজে লাগানো এমন কিছু কঠিন কাজ নয়।

ওপরের কথা গুলো স্মরণ করা হল কেননা গত বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই ভারতবর্ষের ছোট, বড়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক ভাষায় (তা প্রায় ১৮৬ খানা তো হবেই) প্রকাশিত পত্র পত্রিকা এবং ইংরাজি এবং বিভিন্ন ভাষার টেলিভিশন চ্যানেলে একটি বিশেষ বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। চলবে ২০১৪র নির্বাচন পর্যন্ত অবশ্যই। বিজ্ঞাপনটি’র শিরোনাম- ‘ভারত নির্মাণ’। কথাটি বড়ই সুন্দর। ফুকো, দেরিদা পড়া উত্তর আধুনিক যুগের মানুষজন- এই সব শব্দ, যেমন নির্মাণ, নির্মীয়মাণ, বা শব্দবন্ধের অভিসন্ধিতে বন্দি হয়ে আছেন। কংগ্রেস-এর কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, ভারত সরকারের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করেন এবং তাদের সঙ্গে মধ্যবয়স্ক কিছু মন্ত্রী সন্ত্রিরাও আছেন- এই ভারত নির্মাণ শব্দবন্ধ বোধ হয় তাদেরই মস্তিষ্ক প্রসূত। আমজনতাকে সিধে কথা সিধে ভাবে না বলে এ একধরনের মায়া নির্মাণ অর্থাৎ ভবিষ্যতের বায়বীয় স্বপ্নজালে বেঁধে রাখার ষড়যন্ত্র করছেন।

এখন কথা হল ভারত কি নির্মিতির দ্বারা হয়েছে। না ইতিহাসের ওঠা পড়ার মধ্যে দিয়েই এই ভারতের উত্তরাধিকার আমরা পেয়েছি। গত প্রায় দশ বছর এক সংখ্যালঘু কংগ্রেস সরকার রাজত্ব করছে। এই দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার যখন ক্ষমতায় এলো তখন কি সে ভারতবর্ষকে মহেঞ্জোদারো ভেবে নিয়েছিল? যেখানে সবকিছু ধ্বংসের আড়ালে এক মহাবিস্মৃতি। সেই বিস্মৃতিকে টেনে বার করে নতুন করে সবকিছুকে গড়ে তোলবার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কংগ্রেস-এর প্রধানা সোনিয়া গান্ধী আর তারই মনোনীত প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির ডাক্তার মনমোহন সিংহ। যদিও তার ডাক্তারিতে ভারত নামক রুগিটি মরো মরো; বিগত দশ বছরে অর্থাৎ সেই ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ভারতবর্ষের জনগণকে তিনি ধোঁকা দিয়ে একের পর এক কেচ্ছার ঘেঁটু ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন, আর ভেতরে ভেতরে দেশটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এই খাদের নিচে ঝুলতে থাকা দেশটিকে বাঁচাতে কংগ্রেস যে চেষ্টা করছে সেটাতো দেখাতে হবে। এই উদ্দেশ্যেই ‘ভারত নির্মাণ’ নাম দিয়ে প্ল্যানিং কমিশন-এর কাছ থেকে ৬৩০ কোটি টাকা আদায় করে নিয়েছে বর্তমানের অর্ধ-অবৈধ কংগ্রেস সরকার। তবে এই টাকাটা সঠিক খাতে ব্যয় হবে তো? নাকি মাঝপথে সাইফন হয়ে কর্তাদের দেশি বিদেশী ব্যাঙ্কে চলে যাবে। প্রণব মুখার্জি যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন বিদেশী ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ২০০ জন ভারতীয়র নাম পাওয়া গিয়েছে। তাদের বিদেশী ব্যাঙ্কে আমানতের পরিমাণ ৩৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশী (যদি না স্মৃতি বিশ্বাসঘাতকতা করে থাকে। কেননা এটা বেশ কিছুদিন আগের পরিসংখ্যান)। এই অর্থ নানা রকম চেষ্টা চরিত্র করে, এমনকি উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে ফন্দি ফিকির করে দেশে নিয়ে আসতে পারলে, আজ ভারতে অর্থনীতির অবস্থায় যে দেউলিয়াপানা দেখা যাচ্ছে তার থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া কঠিন ছিল না। দেশের প্রায় সব প্রকল্পই গান্ধী নেহরুদের নামাঙ্কিত। সেগুলো বছরের পর বছর বিজ্ঞাপিত হচ্ছে। কখনো গ্রামন্নোয়ন, কখনো জহরলাল নেহরু নামাঙ্কিত আরবান মিশন, ইন্দিরা আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ ইত্যাদি। পশ্চিমবঙ্গের সরকার যখনই এইসব প্রকল্পের সার্থকতা উল্লেখ করে তার প্রচেষ্টায় রত, তখনই স্থানীয় কংগ্রেস নেতারা যাদের কোনও স্থির রাজনৈতিক অস্তিত্বের ভিত্তি নেই, তারা সমস্বরে চিৎকার করেন- ‘ও সবতো আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান’। ওরা ভুলে যান গত দশ বছরে ওদের কেন্দ্রীয় সরকার আর তার মন্ত্রীরা এই সব প্রকল্প ঘোষণা করে কিভাবে এবং কি প্রক্রিয়ায় অসংখ্য আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে গেছেন। পারমাণবিক চুক্তি করে আমেরিকার মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব পাওয়া গেছে। ওখানেও কিছু কেলেঙ্কারি যে হয়নি একথা এখনো হলপ করে বলবার সময় আসেনি। টু-জি কেলেঙ্কারি, রেলগেট কেচ্ছা, কয়লা ব্লক বিতরণের অস্বচ্ছতা ইত্যাদি ঘোটালা থেকে নিষ্কৃতি পেতে এবং সংখ্যালঘু সরকারকে বাঁচিয়ে রাখতে মুলায়ম সিংহ যাদব এবং মায়াবতীর সামনে সিবিআই নামক “ডিমোক্লিসের সোর্ড “ ঝুলিয়ে রাখা কি প্রমান করে?

যে বিজ্ঞাপনটি প্রতিদিন প্রিন্ট এবং ভিসুয়াল মিডিয়াতে দেখানো হচ্ছে, তার একটা মাত্র উদ্দেশ্য ভোটারদের অন্তত কিছুকাল বোকা বানিয়ে এবং ২০১৪ সালে অন্যান্য কিছু শরিক জোগাড় করে তৃতীয় বারের জন্য কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরতে চায়। এটা সম্পূর্ণটাই চালাকির দ্বারা একটা অসৎ উদ্দেশ্য সাধন করবার প্রক্রিয়া মাত্র। কেননা রাজকোষ যেখানে শূন্য, বৈদেশিক বানিজ্য তলানীতে, টাকার দাম ডলারের তুলনায় ধূলিসাত, তখন ৬৩০ কোটি টাকার অনুৎপাদি খরচ করবার কি অধিকার সরকারের!

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map