M3 Views

মুখ্যমন্ত্রীর সফল পাহাড় অভিযানে তার পাহাড়বাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিশাঃ প্রদেশিক ছুটকো কংগ্রেসীদের তির্যক অভিমত

অমিয় চৌধুরী  | November 1, 2013

বিমল গুরুং একটু ভুল করে ফেলেছেন। গুলিয়ে ফেলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পরম্পরাগতভাবে একজন জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। একটাই তফাৎ জ্যোতিবাবুরা ঐতিহ্যগত বামপন্থী – যারা একদা গোর্খা সম্প্রদায়ের জাতীয় আস্মিতার কমবেশি সমর্থক ছিলেন সেই স্বাধীনতা পূর্বত্ব কালে। আর চৌত্রিশ বছর ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার পরিসর কোন কালেই আর কমাতে চাননি। বুদ্ধদেবও জ্যোতির্ময় বুদ্ধ ছাড়া আর কিছু নন। জ্যোতিবাবু তার ক্যারিস্মা খাটিয়ে গোর্খা লিগের একমাত্র নেতা সুবাস ঘিষিঙকে আয়ত্তে আনতে চেষ্টা করেছিলেন ১৯৮০ দশকের প্রথম দিকে। ভারতীয় গোর্খা রেজিমেন্ট–এর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক সুবাস ঘিষিঙ অতিরিক্ত উচ্চাশা নিয়ে দার্জিলিং পাহাড়ে তার লেখায় বা কবিতায় অর্ধশিক্ষিত, কিন্তু প্রচণ্ড পরিশ্রমী আর স্পর্শকাতর দরিদ্র নেপালীদের মধ্যে একটা আত্মসচেতনতা বোধ জাগ্রত করে তার উদ্দেশ্য সাধন করতে চেষ্টা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নেপালী সম্প্রদায়কে জাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য তৈরি করতে। অর্থাৎ গোর্খা রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে বসা।

জ্যোতিবাবুদের পুলিশ প্রশাসন আর দলীয় ক্যাডারদের প্রচুর অস্ত্রের ব্যবহার কোন কাজেই আসেনি। প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সাহায্যে রাজভবনে জ্যোতিবাবু ১৯৮৮ সালে এক ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে শান্তির বার্তা দিলেন। স্বশাসিত গোর্খা হিল কাউন্সিলকে প্রতি বছর অগাধ টাকা দিতে লাগলেন। সুবাস ঘিষিঙ দার্জিলিং-এর সামাজিকভাবে পিছিয়ে পরা, অর্থনৈতিকভাবে দারিদ্রের চরমতম সীমায় পরে থাকা নেপালী সম্প্রদায়ের জন্য সময় না দিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র প্রদত্ত টাকায় যখন চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারী, গোর্খা লিগ দলের মধ্যেই তখন গোলমাল লেগে গেল। দুই দশকের বেশি সময় পেয়েও গণতান্ত্রিক কোন নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গোর্খা সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কোন চেষ্টা করলেন না তিনি। গোর্খা সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে গোর্খাজাতি এবং দার্জিলিং পাহাড়ে অন্যান্য দরিদ্র মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগালেন না। তাদের সঙ্গে ঊনবিংশ শতাব্দীর নবাব বাদশাহদের মত ব্যবহার করে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনেন। দলের বিদ্রোহদমনের প্রয়াশে গোর্খা হিলস্‌ কাউন্সিল কে সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলীভুক্তির দাবীর চেষ্টায় দিল্লী গিয়েও মুখরক্ষা হল না। ঘিষিঙ সাহেবও আর পাহাড়ে উঠতে পারলেননা। প্রায় চিরকালের জন্য সমতল শিলিগুড়ির পেন্টাল ভিলেজ এবং অন্য বাংলোয় আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন।

গুরুং এবং রোশন গিরির নেতৃত্বে আগেই গোর্খাজনমুক্তি মোর্চা তৈরি হয়ে গেছে। পাহাড়ের মানুষের আবার একটু আস্থা ফিরেছে। বিশেষ করে অল্পবয়সী যুবক যুবতীদের। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে তখন সমতলের শিলিগুড়িতে অল্পবয়সীরা কেউ মাথা কামিয়ে ফেলছে আর অন্যান্যরা আমরণ অনশনে বসে গিয়েছে। বুদ্ধবাবুকে কিন্তু তখন ‘সফট্‌ আর টাফ’ হতে দেখা যায়নি। আজ বিরোধী নেতা যেভাবে জ্ঞান দিয়ে বলছেন মমতার উচিৎ ‘রাফ’ নয় সফট্‌ হওয়া। আলোচনার মাধ্যমেই দার্জিলিং সমস্যা মেটাতে হবে উবাচ বিমান বসু। বিগত প্রায় তিন দশক ধরে ওরা তো কখনো প্রশাসনিক ‘সফট্‌ অ্যান্ড টাফ’ হননি। অস্ত্র দেখিয়ে শুধু ‘রাফ’ই ছিলেন। আর শেষকালে সুবাস ঘিষিং-এর কাছে দার্জিলিঙকে বন্ধক দিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ বন্ধকি সুদও আদায় করতে পারেননি। আর্থ-সামাজিক ভাবে দরিদ্র পাহাড়বাসীদের কাছে কিছু উন্নয়ন-এর স্বপ্নও দেখাতে পারেননি। ভাবখানা এইরকম যে আর অশান্তি বাড়িয়ে লাভ নেই। ওরা যা করছে করুক, পশ্চিমবঙ্গের সমতল ভূমিতে সুখে শান্তিতে আমরা বাস করি। আর পাহাড়ে সুবাস ঘিষিংকে কিছু দিয়ে থুয়ে সমতলে আমরা টাকা কামাই আর এখানকার মানুষকে ধমক ধামক আর শহুরে শিক্ষিত মানুষজনকে কিছু পাইয়ে দিয়ে ওদের মুখ বন্ধ করে রাখি। এইখানেই জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর তামাম বামফ্রন্টীয় নেতৃবৃন্দের তফাৎ। জ্যোতিবাবু সম্প্রদায় বুঝেও বোঝেননি। ছলে বলে কৌশলে কখনো বা লাঠৌষুধি  প্রয়োগ করে বিরোধী নেত্রী মমতার অপ্রতিহত গতি রুখে দিতে চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে জ্যোতি, বুদ্ধরা তাদের বিশ্বস্ত স্যাঙাৎ পেয়েছিলেন প্রাদেশিক কংগ্রেস আর জোটবদ্ধ কংগ্রেস সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশ্রয়। ততদিন দার্জিলিং পাহাড়ে সুবাস ঘিষিং-এর গোর্খা লিগ দল এর হিলস্‌ কাউন্সিল থেকে জঙ্গি বিমল গুরুং আর রোশন গিরিরা বাইরে বেরিয়ে এসে গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের জন্য নতুন করে আর একটা আন্দোলন করে নিজেদের শক্তি যাচাই করতে চেয়েছিলেন। বুদ্ধবাবু তখন শিলিগুড়িতে বিশ্রামে। দার্জিলিং পাহাড়ে শুধু বেড়াতে যাওয়া এবং সুবাস ঘিষিং-এর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করে দু’একবার সেই প্রায় খন্ডহর দার্জিলিং শহরটা দেখে আসা ছাড়া আর কিছু করেননি।

এইখানেই পশ্চিমবঙ্গের পালাবদলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্বতন্ত্র। পাহাড়ের নম্র ভদ্র কিন্তু বড়ই দরিদ্র মানুষগুলোর উন্নয়ন যজ্ঞে সামিল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সামিল করতে বারবার দার্জিলিং, কার্শিয়াং আর কালিংপঙে ছোটাছুটি করছেন। পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র বিশেষ করে জঙ্গলমহল আর দার্জিলিং এবং সন্নিহিত অঞ্চলের উন্নয়নকে পাখির চোখ করে ফেলেছেন। নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তার আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর তৃণমূল কংগ্রেস তখনও কেন্দ্রে কংগ্রেস নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের শরিক। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে পাহাড়ের গোর্খা সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণে সামিল করতে অসুবিধা হয়নি। কেননা কংগ্রেস হাইকমান্ডও তখন মমতার তৃনমূল কংগ্রেস-এর সমর্থনে যথেষ্টই তুষ্ট। এদিকে তোলা আদায়কারি বনধ্‌ রাজনীতিতে সাময়িক ক্লান্ত গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল, রোশন আর হরকা বাহাদুর ছেত্রি-রা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গের শান্তি চুক্তির জন্য উৎসুক। পাহাড়ের একদা স্বৈরতান্ত্রিক রাজপুত্র সুবাস ঘিষিং জনমুক্তি মোর্চার আগ্রাসনে শোলার  রাজপুত্রে পরিণত হয়ে সমতলে নির্বাসিত। খেপে খেপে অনশনকারি গোর্খা বা নেপালী যুবকবৃন্দ নতুন আশ্বাসনে তাদের অনশন মঞ্চ থেকে উঠে এসেছে। নতুন পথের দিশায় বড় আশায় তারা উন্মুখ। রাজনীতিক মমতা ঠিক এই সুযোগটাই কাজে লাগালেন। কেন্দ্রীয় সরকার, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার একমঞ্চে বিশাল জনসমাবেশকে সাক্ষী রেখে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল এডমিনিস্ট্রেশন চুক্তি ( বা জিটিএ ) সাক্ষরিত হল। চুক্তিপত্রে কিন্তু বিমল গুরুং সই করলেন না, পূর্ববর্তী গোর্খা হিলস্‌ অটোনমাস কাউন্সিল-এ কিন্তু সুবাস ঘিষিং যেমন নিজেই সই করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধিকে সামনে রেখে। জিটিএ সাক্ষরিত হল দলের সচিব রোশন গিরির দ্বারা। উপস্থিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরম এবং মঞ্চে উপবিষ্ট বিমল বেশ কিছু ভালো ভালো বিশেষণে ভূষিত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দু’মাসের মধ্যে পাহাড় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার সত্যিই, নিন্দুককূল ছাড়া, আর সবারই প্রশংসার প্রয়াস বলে গ্রাহ্য হল। মুখ্যমন্ত্রী হয়েই এবং তার আগেও পাহাড়বাসীর মনে বিশ্বাস অর্জনে মমতা বার বার পাহাড়ে ছুটেছেন।

কিন্তু এসব সত্ত্বেও শিলিগুড়ির সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য আর তার স্যাঙাতরা বেসুর তুলে দিল। ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটরি’ বাক্যবন্ধের মধ্যেই লুকিয়ে আছে স্বাধীন গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের বীজমন্ত্র। আর মঞ্চে উপবিষ্ট গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের রাজকীয় ভঙ্গির কোটালপুত্র বিমল গুরুং ইঙ্গিতে বোঝালেন – জিটিএ, গোর্খাল্যান্ড স্বাধীন রাজ্যগঠনের প্রথম ধাপমাত্র। অশোক ভট্টাচার্য আর গুরুং সাহেব-এর ভাবনার কি বিচিত্র মিল। অতএব অনুমান করা গিয়েছিল আবার গোর্খা আন্দোলন সময়ের অপেক্ষামাত্র। জিটিএ-র নির্বাচন ততোদিনে হয়ে গেছে। সভাপতি গুরুং আর সচিব রোশন গিরি কালিম্পং এর ছাত্র বাহাদুর এবং কার্শিয়াং এবং দার্জিলিং-এর বিধায়করাও জিটিএ-র নির্বাচিত সদস্য। জিটিএ গঠিত হবার সময় বিমল রোশনরা তরাই, ডুয়ার্স সহ সমতলের ৩৪৬টা মৌজা দাবি করলেন। শ্যামল সেন কমিটি ক্ষতিয়ে দেখে সমতলের মাত্র তিনটি মৌজা জিটিএ-এর অন্তর্গত করতে সুপারিশ দিলেন। বিমল রোশনরা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হলেন। এর মধ্যেই কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কয়েকবার পাহাড়ে এসে অন্যান্য সংখ্যালঘিষ্ঠ আদিবাসী, ভূমিপুত্র লেপচা, লিম্বু, ভূটিয়া, তামাংদের সামাজিক অবস্থান এবং আর্থিক অনটনের সামগ্রিক একটা চিত্র দেখে গেলেন। গুরুংদের আন্দোলন আবার মাথাচাড়া দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী তখন লেপচাদের জন্য লেপচা ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল তৈরি করলেন। দার্জিলিং-এ প্রশাসনিক সভা ডাকলেন। মঞ্চে বিমল গুরুং কে বসিয়েই দেখতে পেলেন মঞ্চের একপাশে এবং সামনের সারির কিছু মানুষের হাতে – “আমরা গোর্খাল্যান্ড রাজ্য চাই” – স্বাধীন গোর্খাল্যান্ড এর পোস্টার। বিমল গুরুং-এর গলায় প্রচ্ছন্ন সমর্থনের ইঙ্গিত। মমতা তখনি মন্তব্য করেছিলেন – এটা একটা প্রশাসনিক স্তরের জনসভা। এখানে রাজনীতির কথা চলবে না। আপনাদের অনুরোধ করব আপনারা আর্থিক উন্নয়ন আর সামাজিক সুরক্ষার লক্ষ্যে সমগ্র রাজ্যের পাশে এসে দাঁড়ান। কেননা পশ্চিমবঙ্গ এক এবং অবিভক্ত। পশ্চিমবঙ্গকে আর দ্বিতীয়বার বিভক্ত হতে দেওয়া যাবেনা। এই ব্যাপারে আমি কিন্তু যথেষ্ট ‘রাফ অ্যান্ড টাফ” হতে প্রস্তুত। বিমলরা কিন্তু তখন রা কাড়েননি।

এরপরেই শুধুমাত্র ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ও পরে মন্ত্রীপরিষদে পৃথক তেলেঙ্গানা গড়ার দাবিতে শিলমোহর দিয়ে দিল ২০১৩ সালের জুলাই মাসে। এর প্রচন্ড অভিঘাত শুরু হল দার্জিলিং পাহাড়ে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রায় ক্ষেপে উঠে জিটিএ কে প্রায় অকেজো করে বিমল গুরুং জিটিএ-র প্রধানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে কোণঠাসা করতে অথবা নতুন পথে চলতে বাধ্য করার কল্পে পদত্যাগ পত্র পাঠালেন। মমতা কিন্তু এক কথায় বিমলের পদত্যাগ গ্রহণ মেনে নিলেন। একজন দক্ষ প্রশাসকের মত ওদের বাধ্য করলেন জিটিএ-এর নতুন সভাপতি নির্বাচনে। ইতিমধ্যে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার, যাদের বিরুদ্ধে খুন জখম এর রাষ্ট্রীয় সম্পদ-এর ক্ষতি কারকদের জেলে পুড়লেন। বিমল গুরুংরা এতোটা ভাবেননি। মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ভার নিয়েই মমতার একমাত্র লক্ষ্য ছিল অঞ্চল ভিত্তিক বিশেষ করে পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন-এর বিপুল বিধান- যা তার পূর্বসুরীরা শুরুই করতে পারেননি। মমতার প্রতিটি আগমনে পাহাড়বাসী বিপুল জনসমাবেশ আর বিশেষ করে লেপচা এবং অন্যান্য আদিবাসীদের উল্লাস এবং উপস্থিতি বিমলের মনে একটা ভয় ধরিয়ে দেয়। রিচমন্ড হিলসে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক হয়। এই বৈঠকে মোর্চার তিন বিধায়ক ছাড়া রোশন গিরি সহ অপর দুই জনমুক্তি মোর্চার সদস্যও ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোর্চা নেতা এবং বিধায়ক হরকা বাহাদুর ছেত্রি ঘোষণা করেন -  "It will be a bandh on bandhs"। অর্থাৎ বনধ্‌-এর রাজনীতি আর নয়। মমতার উন্নয়নের পথে একসঙ্গে হেঁটে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌছব। বিমল গুরুং নেতৃত্ব হারাবার ভয়ে ২৭ অক্টোবর আর এক জনসমাবেশ করে উচ্চ কণ্ঠে ভীত বিমল ঘোষণা করেছেন – আমাদের লক্ষ্য একমাত্র স্বাধীন গোর্খাল্যান্ড। বিমল ভীত কেননা মমতার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক সাঁড়াশি অভিযান। দিনের পর দিন তৃণমূল কংগ্রেস পাহাড়ে পথ বিস্তার করছিল। প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত ভাবনা চিন্তার পর দৃঢ় পদক্ষেপ। বিমলের নিজের দলের ভাঙ্গন। মাথা কামিয়ে যারা দিনের পর দিন অনশনে বসেছিল তাদের ক্ষোভ আর লেপচা সম্প্রদায়ের মমতার কার্য পদ্ধতির ওপর প্রচণ্ড আস্থা এবং শোষিত গোর্খা লিগের পুনরুত্থান। অবশ্যই তাই তার ২৭শে অক্টোবরের জনসভাতেই ঘোষণা করতে হয় – আমাদের লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য। তবে আমদের আন্দোলন এবার থেকে অহিংস পন্থায়।

সুতরাং শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্বন্ধে তার কট্টর বিরোধী সিপিএম-কে সুর নরম করতে হয়েছে। শুধুমাত্র বঙ্গদেশের ছুটকো কংগ্রেস নেতারা এখনও টেলিভিশন-এর টক-শো বলে যাচ্ছে মমতার এই পদক্ষেপ সাময়িক স্বস্তি আনলেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অগ্রগতি ঠেকানো যাবেনা। ক্রমশ ক্ষীয়মাণ একটা জাতীয় দলের – এই ধরণের দুর্দশাই বোধ হয় প্রশাসক আর সার্থক রাজনীতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সফল অভিযানের দ্যোতক।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map