M3 Views

এই সময়: বিরোধী সিপিএম ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যত

অমিয় চৌধুরী  | December 5, 2013

চোখের সামনে কত কিছুই তো ঘটছে। দু’তিন বছর আগে হলে যে কেউ আশ্চর্য হতেন। আজ আর হন না। রাজনীতির এই সময়ের অভিঘাতে সিপিএম নাকি আবার জেগে উঠছে। ওদের কল্যাণে কামদুনীতে বড় মিছিল হল, বদলে দেওয়ার রাজনীতির অংশভাগি অতি বৃদ্ধ অথবা তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, যারা দু’একটা কলেজে ৩৫/৪০ বছর মাস্টারি করা শিক্ষাবিদ পুরুষ এবং মহিলা, দুএকজন শিল্পী বা ছোট আকারের কবি যোগ যোগ দিলেন সেই মিছিলে। দিন শেষে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসকদের তুষ্টি নুষ্টি করে গাড়িতে আরামে কাত হয়ে ফিরে এলেন। সেইদিন এবং তার পরে কদিন ধরে কিছু টেলিভিশনে একজন প্রতিপক্ষ বসিয়ে রাজ্য হাল হকিকত তুলে ধরলেন। গনতন্ত্র বিপন্ন – এমন সব কথার প্যাঁচে রাজ্য সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করে টিভির সুললিত অ্যাংকরকে এরা মজা বিলিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। হচ্ছে হোক। আপত্তির কারণ নেই। সিপিএম এর জেগে ওঠা দেখানো হল অহোরাত্র টিভির পর্দায়। রাজ্য কমিটির ডাকা মহাসম্মেলন হল রাণী রাশমনি এভিনিউ-এ। ভাবা গিয়েছিল ওদিন রাস্তা ঘাটে গাড়ি ঘোড়ার যান জটে কলকাতা অচল হবে। কিন্তু হল না। প্রায় হাতে গোনা কিছু কমরেড মঞ্চে। আর নিচের জনসমুদ্রের পরিবর্তে গোটা রাশমনি এভিনিউর এখানে সেখানে ছিটিয়ে মানুষের মরুদ্যান। বক্তৃতা টক্তিতা আজকাল আর জমাতে পারছেন না কমরেডরা। আসলে ওরা তৃনমূল সরকারের নেতা নেত্রীর বিরুদ্ধে কোন ইস্যু খুঁজে পাচ্ছেনা। এত বড় একটা মওকা সারদা কান্ড তুলে নিয়েও কিছু করা গেল না। হারের ওপর হার। আর কাহাতক সহ্য করা যায়।

ঠিক এইসময় হাতে গরম কুনাল ঘোষ তার জবানবন্দি নিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। সারদা কাণ্ডে কয়েকজনের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারির নাম না হয় জড়ালেন; তার বিপরীত ফল ও মিলবে। শোনা যাচ্ছে শুভেন্দু আদালতে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর জড়িত থাকার প্রশ্নও তুললেন। এই সেই জালিয়াত কুনাল ঘোষ (ডিগ্রি নিয়ে তার জালিয়াতির প্রমাণ, একটি বহু প্রচলিত সংবাদ পত্র থেকে তিনি একদা বিতাড়িত হয়েছিলেন) যিনি পরিবর্তনের দ্রোহকালে একদা হবু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে নিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছিলেন। পরে রাজ্যসভার সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন। কুনাল এখন হাজতবাসী। অতএব চলো সল্টলেক কমিশনারেটে স্মারকলিপি দিতে। কেননা কুনাল যে সব নাম করছেন – তাদের সবাইকে জেরা করতে হবে। নেতৃত্বে সেদিন, এইতো নভেম্বরের ২৯, কে কে ছিলেন? দক্ষিন ২৪ পরগনার সিপিএম নেতা পাণ্ডিত্যের বহিঃপ্রকাশে পাকা চুলের ডঃ সুজন চক্রবর্তী, কিছুটা জঙ্গীভূমিকায়। এখন ঠিক কি জানি না, তবে একদা নকশাল, পরে সিপিএম, ২০০৬-এ তৃনমূলী, শ্রী অসীম চট্টোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস এর প্রদীপ ভট্টাচার্য। স্মারক লিপি নিতে কেউ এলনা অথবা কোন আধিকারিক ছিলেন না। গায়ের জোরে গেট্‌খুলে বড়ই উত্তেজিত সুজন। দুজন লোক বগল ধরে নিয়ে আসছেন আমাদের কালের বুদ্ধিজীবী সুনন্দ স্যান্যালকে। মুখে চোখে প্রচন্ড ভয়ের ছায়া। রটে গেল স্যান্যাল মশাইকে পুলিশ লাঠি মেরে আহত করেছে। পর দিন দু একটা কাগজ, বিশেষ করে ইংরাজি স্টেটসম্যান, বড় করে খবর করল – সুনন্দ বাবুকে পুলিশ লাঠি মেরেছে। ফোন করে পরে জানা যায় না উনি প্রহৃত হননি। আস্তে আস্তে দু একটি টেলিভিশন ছাড়া ঘটনার রেশ মিলিয়ে গেল। পরদিন বামপন্থী বিশেষ করে সিপিএম এর মহিলা বাহিনী স্মারকলিপি দিয়ে এলেন। সেও এখন অতীতের গর্ভে। বুদ্ধদেববাবু, গৌতম দেবরা যেখানেই সভা করছেন তেমন লোক আর হচ্ছেনা। তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলছেন – অতীতে আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছি। অথচ বন্ধ দরজার আড়ালে পার্টির নেতাদের নিয়ে বলছেন – না এখনো লোকের চোখে আমরা দাগী, ঘুরে দাঁড়ানো অন্তত সম্ভব নয়। এই কথাটাই ঠিক ভেবেছেন জ্ঞানী বুদ্ধকুল। ওদের মুখের কালি এখনো বড় স্পষ্ট। লোকের কাছে ওদের ভণ্ডামি আর দ্বিচারিতা এখন নগ্ন।

বুদ্ধবাবু আপনাদের মুখগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। খোলামেলা রাজনৈতিক এবং গনতান্ত্রিক সমাজে আপনাদের বিপ্লবী বুকুনি – ‘ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম’ গনতান্ত্রিক মোড়কে ‘সোনার পাথরবাটি’ | বরং নিজেরা সরে গিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে অর্থাৎ যারা আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গীতে কম্যুনিজমকে বুঝতে চেষ্টা করবেন তাদের সামনে আনতে চেষ্টা করুন | দিল্লী থেকে এবং রাজ্য থেকে ইয়েচুরি, প্রকাশ, বৃন্দা এবং নিজেদের জায়গায় ওই প্রসেনজিত-জাতীয় ছেলেদের নিয়ে আসুন। সিপিএম এখনো বুঝতে পারছেনা অ থবা বুঝেও স্বীকার করছেনা। ২০০৮ সাল থেকেই তৃণমূলের ক্ষমতার গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতিকালেই দেখুন, পাঁচটি পুরসভা নির্বাচনে হাওড়া, ঝাড়গ্রামে কেমন গনতান্ত্রিক মারটা খেলেন সিপিএম করিয়েরা। পাঁচটা পুরসভার ভিতর তৃণমূল জিতে গেল চারটিতে। আর অধীরের খাস তালুক মুর্শিদাবাদে দীর্ঘকাল দ্বিতীয় স্থানে থেকে কেমন পা হড়কে সিপিএম নেমে এল তিন নম্বরে। আর অবাক কান্ড সিপিএম এর মমতা জয়সোয়াল হাওড়া কর্পোরেশনে বিজেপির কাছে গোহারা হারল। অতএব কিছুদিন গলা না উঁচিয়ে যুবকশ্রেণীকে স্থান করে দিয়ে সিপিএম-এর বর্তমান নেতৃবৃন্দ মুখে লিউকোপ্লাস্ট সেঁটে শুধু অন্তর্ধান করে যান।

রাজ্য কংগ্রেস এখন সিপিএম-এর মতই বিরোধীদল। প্রচলিত কোন মুখটা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য! এদের নিয়েই সভাপতিত্ব করে মুখে চোখে শ্লাঘায় রসে বসে। ওরাও সেদিন রানী রাসমণি অ্যাভেনিউতে আইন অমান্য করতে হাজার হাজার জন মানুষ নিয়ে যাবেন বলেছিলেন। হাজার তো দুরের কথা, যে কয়েকশো ছিলেন তা দূরবীক্ষণ-এ দেখার মত। আইন অমান্য শুরু হওয়ার আগেই বহু মানুষ পশ্চাতগামী হল। আইন অমান্য আর হল না। প্রদীপ ভট্টাচার্য ক্ষুণ্ণ হয়ে বললেন – এত মানুষ (অবশ্যই ওর কল্পনায়), তার তুলনায় পুলিশের গাড়ি নেই। পুলিশের বড় কোন কর্তা এসে তো বলতেই পারত – আমরা আপনাদের সবাইকে আটক করলাম। কিন্তু বিনা শর্তে বিনা সাক্ষরে মুক্তিও দিয়ে দিলাম। তা কিন্তু হল না। কিছু কঠোর ভঙ্গিতে মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাছা বাছা কিছু শব্দে ভাসিয়ে দিয়ে সভা শেষ করে দিলেন। ওদের কথায় এখন আর লোক ভিড় করবেনা। সব পাখিই এখন উড়ন্ত। তবে সেই একটি পাখি যিনি পাখার হাওয়ায় একদিন মমতাকে চোখের আড়াল করে অপদস্ত হয়েছিলেন সেই তৃণমূলে কান্নাকাটি করে চলে যাওয়া মানুষটাকে ফেরাবার প্রতিক্ষায় আছেন প্রদীপবাবুরা। কিছু হবে না প্রদীপবাবু। মুখটাকে নেতা হওয়ার যোগ্যতায় গড়ুন। তৃণমূলের প্রশ্রয়ে ৪২টা আসন পেয়েছিলেন ২০১১ সালে। পরিসংখ্যানগত ভোটের অংশ 'ডিস্‌এগ্রিগেট' করলে দাড়ায় – তৃণমূলের ভাগ ৫০.১২ শতাংশ, কংগ্রেসের ভাগ্যে ১০.৩ শতাংশ। অতএব একা ঘুরে দাঁড়াবার ফল কি হতে পারে মনে করে সোনিয়া গান্ধী আর মমতা সমীকরণ কি হতে পারে তাই ভাবুন।

[ মতামত লেখকের। সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা পরের সংখ্যায় থাকবে। ]

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map