M3 Views

কংগ্রেস-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎঃ কারাতদের তৃতীয় ফ্রন্ট শুধু কাল্পনিক স্তরে

অমিয় চৌধুরী  | December 16, 2013

সাপ্তাহিক column- এর জন্য এই লেখাটা হয়তো একটু বাসি হয়ে গেল। কেননা একটা ঘটনা হল কয়েকটি পুরসভার নির্বাচন। যার ফল ঘোষিত হয়েছে ২৫শে নভেম্বর আর পাঁচটি রাজ্যের বিধান সভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হল ৮ই ডিসেম্বর। কংগ্রেস দলের অবস্থা, সে জাতীয় স্তরেই হোক কিম্বা এই রাজ্যে, বড় করুন। ৩৪ বছর ধরে যারা এই রাজ্যের সিপিএম-এর বোঝাপড়ার খেলায় লিপ্ত ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সঙ্গে ভিড়েও শান্তিতে ছিল না। কংগ্রেস দলের রাজ্য স্তরে সবাই নেতা। এদের চলন-বলন সবই পরস্পর বিরোধী। 

এখন অনেক জেলা স্তরের নেতাই কংগ্রেস ছেড়ে সরাসরি চলে আসছে তৃণমূলের দিকে। কংগ্রেস-এর এলে বেলে নেতারা বলছেন তৃণমূল দল ভাঙ্গানিয়া। ভুলে গেছে,ওরাই কিছু অতি সম্ভাবনা পূর্ণ কিছু নেতা-নেত্রীকে দল থেকে তাড়িয়েছিল। আর এখন তো কংগ্রেস আস্তে আস্তে চৌপাট হয়ে পড়ছে। ওরা ভাবতেও ভুলে গেছেন। না হলে, আত্মানুসন্ধান করে বুঝতে পারতেন, কেন শান্তিপুরের প্রতিষ্ঠিত কংগ্রেস নেতা অজয় দে, অথবা বাঁকুড়ার কোতলপুর এর বিধায়ক সৌমিত্র খান বিধানসভার আসন থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিলেন; এই সবই কংগ্রেস নেতাদের ভেবে দেখা দরকার। মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবিরও অনুরূপ কাজ করেছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে এই রকম আরও হবে। অথচ গালাগালি সর্বস্ব বুলি ওদের অস্ত্র। কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের সান্ত্বনা এখন – আগামী জানুয়ারিতেই নাকি তৃণমূলে ভাঙ্গন ধরবে। আসলে ওরা ভাবছেন না যে কিছু পচা আপেল তৃণমূল ছাড়বে। এটা অনেক আগেই ভাবা গিয়েছিল। দলে দলে, এমনকি আস্ত পুরসভাই চলে যাচ্ছে তৃণমূলে। কৃষ্ণনগরে ২৪টি আসনের মধ্যে ২টি মাত্র ছিল কংগ্রেস-এর দখলে। ওরাও যোগ দিল তৃণমূলে।

 তৃণমূলের পতাকার তলায় এখন কংগ্রেস ছাড়াও বামফ্রন্টের মানুষজন। উত্তরবঙ্গ দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে বেশ কিছু উদাহরণ তৈরি হয়ে গেছে। গত ২২শে নভেম্বর পাঁচটি পুরসভার নির্বাচন ছিল। প্রতিটি পুরসভাতেই তৃণমূল কংগ্রেস ৬৫ শতাংশের ওপরে ভোট পেয়ে চারটি পুরসভা দখল করেছে। এখানে উল্লেখযোগ্য হল হাওড়া কর্পোরেশন আর ঝাড়গ্রাম। গত ত্রিশ বছর এই দুটিতে বামপন্থীরা রাজত্ব করতো। এবার হাওড়া কর্পোরেশন-এ তৃণমূলের হাতে গেছে ৪২টি আসন। কংগ্রেস-এর ৪টি থেকে তিনটি আসন চলে গেছে তৃণমূলের ঝুলিতে। সিপিএম মাত্র দুটি আসন জিতেছে। আরো আশ্চর্য ব্যাপার, সিপিএম থেকে নির্বাচিত মেয়র মমতা জয়সোয়াল হেরে গেলেন বিজেপি-র কাছে। অথচ নির্বাচনের দিন মার খাওয়ার নাটক করে হাসপাতাল ভর্তি হয়ে বললেন – গোলমাল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বহরমপুরের একদা রবিনহুড অধির চৌধুরী পুরসভার ২৬টি আসনের মধ্যে ধরে রাখলেন ২৪টি। ২টি আসন গেল তৃণমূলে। আর সব আসনেই সিপিএম তৃতীয় স্থানে। তৃণমূল কংগ্রেস উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। এই ছোট্ট একটা জায়গায় তৃণমূলের অবস্থান কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর গুরুত্ব স্থির করে দিতে পারে আগামী ২০১৪-র সংসদীয় নির্বাচনের পর। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম-এর মতই একদা বেপরোয়া অধীরও কিন্তু একটা নিভন্ত কংগ্রেসী ‘তারা’। 

 জাতীয় রাজনীতির পরিসরেও কংগ্রেস-এর অবস্থা পড়ন্ত। কংগ্রেস এখন বুঝে উঠতে পারছেনা – শ্যাম রাখি না কূল রাখি। সিপিএম কে মদত দিয়ে, শারদ যাদব, মুলায়ম যাদবরা বামফ্রন্টের সঙ্গে ভাবগত ভাবে একত্রিত হলে অথবা বামফ্রন্টের নেতৃত্বে আবার একবার তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে তুলে পেছন থেকে সমর্থন পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছে জাতীয় কংগ্রেস। তবে এখনো বুঝে উঠতে পারছেনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ফেডারেল ফ্রন্ট বা সিপিএম বর্জিত যুক্তফ্রন্টের রাজনীতিক এজেন্ডা। কংগ্রেস-এর সমস্যা বা দোদুল্যমানতা এইখানেই। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় আর দিল্লীর বিধানসভা নির্বাচনে সোনিয়া, রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস ধরাশায়ী। সান্ত্বনা একমাত্র মিজোরাম। যদিও আগামীতে যার কোন ইতিবাচক ফলই হবে না জাতীয় স্তরে। সামগ্রিক ভাবে আর্থ-রাজনৈতিক কারণে কংগ্রেস এখন প্রচন্ড জনরোষের মুখোমুখি। না হলে শীলা দীক্ষিত-এর মত নেত্রী, প্রায় অচেনা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এর কাছে ২৬ হাজার ভোটে পরাজিত হন! বিজেপির এক নম্বরে উঠে আসাও ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী। আর সব চেয়ে আশ্চর্যের, বেশ কিছু চোখ ধাঁধানো উন্নয়নমুখি কংগ্রেস দিল্লীতে মাত্র ৮টি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যাওয়া। এখন ক্ষমতার আশে পাশে থাকার জন্য অরবিন্দের আম আদমি পার্টিকে নিঃশর্ত সমর্থন দিতে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। ছত্তিশগড়ে কিছুটা লড়াই-এর ময়দানে থাকলেও রাজস্থান আর মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস-এর বিশাল পরাজয় জাতীয় রাজনীতিতে এক অন্যমাত্রা যোগ করেছে। তবুও কংগ্রেস প্রেস কনফারেন্স করাচ্ছে রাহুল গান্ধীকে দিয়ে। আর নিশ্চুপ হয়ে দুপাশে বসে আছেন চিদাম্বরম এবং কপিল সিব্বাল। চিদাম্বরম একটা তালিকা এগিয়ে দিচ্ছেন। ওটা পাশে সরিয়ে রেখে রাহুল বলছেন – দেখুন না আমরা কি করি। কি আর করবেন রাহুলজি? 

ঠিক এই সময়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লীতে। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কি হয় তা রাহুল বুঝবেন না। ওর মা সোনিয়া একটু ভেবে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করুন। এ ক্ষেত্রে প্রকাশ কারাতরা কিছু করে উঠতে পারবেননা। এখনকার মত রাজনীতিতে ভেসে ওঠার কাল ওদের শেষ।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map