M3 Views

সুচিত্রা সেন : কবি কথায় – সুচিত্রা আপনি কখনো তুমি হলেন না

অমিয় চৌধুরী  | January 14, 2014

অগ্রজ কবি ভাবছেন আপনি সুচিত্রা সেন। স্বপ্ন সঙ্গিনীই হয়ে রইলেন। এই বিরাশি বছরে দাঁড়িয়ে গভীর অসুখে একটু ক্লান্ত। কতকাল উনি লোকচক্ষুর অন্তরালে! ওকে দেখা যায়নি। ওর সম্পর্কে অনেক গল্প শোনা যায়। সিনেমা পত্রিকার কোন এক বা দুই লেখক ছবি দেখে বাইরের জগতে ওনাকে নিয়ে গল্প লেখেন। আমার অগ্রজ সেই কবির একটা কবিতায় এই কথাগুলো পেলাম। কবিতার ভাষায় কবি লিখেছিলেন। তিনিও বিরাশিতে। পাবনা জেলার জুবিলি রোডের কিনারা ঘেঁষা ইছামতীর সামনে হয়তো দাঁড়িয়ে পরতো এক বালক সেই ছোট্ট টুকটুকে মেয়েটাকে দেখে। এই সবই এখন কল্প কথা মনে হয়।

আজ সুচিত্রা সেন জীবন-মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে। ডাক্তার বদ্যিরা অসাধারণ পরিশ্রম করছেন ওনাকে ফিরিয়ে আনার। ডাক্তার সুব্রত মিত্র আর সমরজিৎকে জিজ্ঞাসা করায় বলেছিলেন, আমরা যা করবার করছি, করবই। আপনারা বাইরে দাঁড়িয়ে শুধু প্রার্থনা করুন। ওর আরোগ্য কামনা করুন। আবার সেই কবিতায় ফিরে যাওয়া যাক। স্মৃতি অস্পষ্ট। তবু যা পাওয়া যায়। এই লেখার স্বল্প সংখ্যক পাঠক অবশ্যই ক্ষমা করবেন। “আমাদের সেই কৈশোর শেষের স্বপ্ন সঙ্গিনী রমনী, সেই রোমান্টিক সাথি ।” বয়স যাদের আশি ছুঁই ছুই, এ তাদেরই মনের কথা। সংসার, স্ত্রী, পুত্র কন্যাকে ছাড়িয়ে এখন তাদের সেই দুনিয়া কখনো সখনো হেঁকে ওঠে। শেষের কোন শেষ নেই। ১৯৯৫ সালে লেখা এই কবিতায় আছে, “তার কোন খবর কাগজে পাই না, টিভি ইন্টার্ভিউ-এ নেই। কেন নেই সুচিত্রা সেন, পর্দার জীবন বড় অরুচি হয়ত বা।” আজ থেকে অনেক বছর আগের সেই উচ্চারণ – আমরা কিন্তু ভয় পেয়ে আছি। পাছে আপনি বোকা প্রশ্নে মেয়েলি জবাব দেন! কেন চিবুকে গভীর দাগ, চোখের তলায় কালচে ছোপ। কেন? “সেকালের ম্যাটিনি গুড়িয়া, রেডিয়ো, তবু ভাল। না সুচিত্রা সেন! টিভি কিম্বা ফটোগ্রাফে প্রত্যক্ষদর্শীর কোন জবানি চাই না।

রাজ্যে মূখ্যমন্ত্রীর কথায় বলি – আপনি সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যান। নাই বা দেখা দিলেন বিগত সাড়ে তিন দশক-এর মত, মৃত্যুর সীমানায় গিয়েও। আপনি আমাদের কাছে, সেই যৌবনদীপ্ত বক্রগ্রীবা, আর চোখের মোহময়তা নিয়ে চিরদিন বেঁচে থাকুন দেহে অদেহে, শৈল্পিক দেহ বিভঙ্গে এক বিরল প্রতিভাময়ী রোগ শয্যায় অবশ, তার জীবন সায়াহ্নে। আর একজন খ্যাতির মধ্যগগনে অনন্য প্রতিভাময়ী হাসপাতালের দরজায় দাঁড়িয়ে চলে গেলেন। তিনি মমতা। সুচিত্রা সেন –এর অসামান্য দীর্ঘ নির্জনতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙ্গতে চান নি। আমার ছেলেবেলায় শেখা একটা উপমা মনে পড়ছে। এটাকে অনেকে স্তাবকতা মনে করতে পারেন। করুন, ভাবুন, তবু এটা আমার কলমে এসে গেলো। অন্য কোন মানে না করাই ভালো। মাস্টারমশাই সেই র্যা পিড রিডার বই থেকে পড়ে শোনাচ্ছিলেন। রামকৃষ্ণ আর বিবেকানন্দ, এদের পরস্পরকে দেখা আর উপলব্ধি করা ওদের এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। দূর দিগন্তে আকাশ আর সমুদ্রের মিলিয়ে যাওয়া ঢেউ, এ যেন এক মেল বন্ধন। রামকৃষ্ণ স্থির আকাশ আর উন্মাদ উত্তাল সমুদ্র বিবেকানন্দের কৈশোর সময়। একটা জায়গায় সুচিত্রা আর মমতার মিল আছে। দুজনের কাছেই রামকৃষ্ণ আর বিবেকানন্দ উপাস্য। বেলুড় মঠে, মানুষের চোখের অলক্ষ্যে, কতবার ছুটে গেছেন সুচিত্রা। এই রোগ শয্যায় শ্রীরামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীরা ওকে দেখে গেছেন। এখন রেড রোডের এক মঞ্চে বসে মমতাও নানাভাবে বিবেকানন্দকে তার সার্ধ শতবর্ষে উপলব্ধি করছিলেন। তারপর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুমতি পেলেন রোগ ক্লিষ্ট মানুষটাকে দেখতে। হয়ত সুচিত্রা একটু লজ্জাই পেয়েছিলেন। রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী যিনি দারুন সংবেদনশীল তিনিও সুচিত্রার নির্জনতাকে সম্মান করে গেছেন। মমতার মত দৃঢ়চেতা লড়াই-এর ময়দানে অসম যুদ্ধেও যিনি টিকে থাকেন, তাকে সুচিত্রা এর আগে সামনাসামনি দেখেননি। মূখ্যমন্ত্রী মমতা বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পীকে সম্মান জানিয়েছিলেন। তবে সেই সম্মাননা মঞ্চে উপস্থিত ছিল সুচিত্রার কন্যা আর এক নাতনি। টাকার খামটা ফেরত দিয়ে অন্য সামগ্রীগুলো ওরা নিয়ে গিয়েছিলেন। একথা সবারই মনে থাকবার কথা। এখন হয়ত সুচিত্রাও চান – মাঝে মাঝে মমতা আসুন তার কাছে। মমতা অবশ্য প্রায়ই যাচ্ছেন, খোঁজ খবর নিচ্ছেন। থাকছেনও বেশ কিছু সময়।

অন্যদিকে রাজনীতির বিরোধীরা ভেবে নিচ্ছেন বঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বুঝি আরো এগিয়ে গেলেন। বিরোধীরাই এই দস্তুর শুরু করেছিলেন সেই দিন ক্ষমতায় থেকে। তবুও এই বিরোধী কংগ্রেস এবং সিপিএম–এর নেতাদের ধন্যবাদ দেওয়াই উচিত। কংগ্রেস-এর পুরোন কয়েকজন নেতা সুচিত্রা কে দেখতে এসে টিভি ক্যামেরার দিকে নজর দিলেন। সিপিএম-র সূর্যকান্ত বাবুও এসেছিলেন। প্রচারের আলো কেউ ছাড়তে চায়না। মুখে স্বীকার না করলেও ওরা কিন্তু মমতাকেই অনুসরণ করেছেন। সুচিত্রাকে দেখতে পেয়েছেন কিনা জানিনা। তবুও ওদের ধন্যবাদ।


কৃতজ্ঞতা স্বীকার : কবি তরুন সান্যাল

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map