M3 Views

অনেকপথ পরিক্রমায় ফল শুন্য: এবার ঘরে ফেরা

অমিয় চৌধুরী  | January 29, 2014

এক বার মনে হয়েছিল এই সময় ব্যাপার সম্পূর্ণ অগ্রহ্ন করাই ভাল। তাই হচ্ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস যেমন প্রায় নির্বাচনের পর থেকেই যাদবপুরের আসন দখল করে থাকা কবীর সুমনকে। ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। সুমনের জন্যেও ভালো। উনি গান টান করবেন। কিছু কথাবার্তা বলে তৃণমূল কংগ্রেস আর তার নেত্রীকে না হলেও অন্য নেতাদের খোঁচাবেন এটা জানা কথাই। সব সময় যে প্রচারের আলোয় থাকতে হবে। আর পাঁচ বছর টিকে থাকলে কম লেখাপড়া জানা লোকের পক্ষেও সংসদ থেকে যে পেনশন প্যাকেজটা আসবে, সেটা ‘ফ্যাবুলাস’ সোমেন মিত্র মশাই-এর ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি মাত্রায় প্রযোজ্য। 

গত ৫/৬ মাস ধরে, সোমেন মিত্র তৃনমূল ছাড়বেন ছাড়বেন করছিলেন। কিন্তু ছাড়ছিলেন না। এটা শারীরিক, মানসিক দুটো কারণেই। গত প্রায় পাঁচ বছর উনি সাংসদ। কিন্তু কি সংসদীয় অবদান রেখেছেন – প্রশ্ন করা বা বক্তৃতার মাধ্যমে? এমন কি উপস্থিত থেকেও, তার সংসদীয় রিপোর্ট শূন্য বানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ১৯৭২ সাল থেকে উনি পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিধান সভায় বছরের পর বছর প্রায় সব সময়ই তিনি ডুমুরের ফুল। আসলে ওর কাজটাই ছিল আরামে আলসে গলায় সোনার চেন ঝুলিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে রাজনীতি করা। ওর তখন এবং হালের কংগ্রেস-এর নেতারা বলেন উনি নাকি নিপুন সংগঠক। ছয় কে নয় করেন। তা অবশ্য খানিকটা উনি প্রমাণ করেছেন; ১৯৯০ এর দশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে তাড়িয়েছিলেন বাইরের দরজার রাজনীতি করে। 

কিন্তু তার পরে কি করলেন! কংগ্রেস নামক একটা অতিকায় সংগঠনকে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করা ছাড়া। উনি এবং ওর বঙ্গীয় দল, মমতা নামক রাজনীতিতে একটা বিরাট শক্তিকে দমিয়ে রেখে, সিপিএম এর উচ্ছিষ্ট ভোগ করে গেছেন ৩৪ বছর ধরে। মমতার সঙ্গে নির্বাচনী ময়দানে গাঁটছড়া বেঁধেও অধীর হয়ে গিয়ে তলে তলে নির্বাচন-এ মমতার সর্বনাশের চেষ্টা করেছিলেন ২০০১ সালের নির্বাচনে। হয়ত সবারই মনে থাকবে। 

এতসব কথা লিখতে হতো না যদি না তিনি ঘরে বাইরে তৃণমূলের সর্বনাশের আয়োজন করতেন। তবে উনি ভুলে গেছেন, কংগ্রেসেই যান বা সিপিএম-এ, উনি এখন একটা নির্বাপিত নামের ছাই মাত্র। ওকে নিয়ে এত কথা লেখার একটাই কারণ। শেষ বেলায় তৃণমূলের সাংসদপদ ছেড়ে গত ২১ জানুয়ারি আবার সেই পুরনো কংগ্রেস-এ ফিরলেন বিশ্বাসঘাতকতার একটা সম্পূর্ণ চক্র পরিক্রমা করে। কংগ্রেস ছেড়ে গড়লেন প্রোগ্রেসিভ ইন্দিরা কংগ্রেস ( যেমন প্রণব মুখার্জি করেছিলেন ১৯৮০র দশকের মাঝামাঝি)| মস্ত বড় ফ্লপ হয়ে যখন হাবুডুবু খাচ্ছেন তখন এই ২০০৮ সাল নাগাদ মমতার হাত জড়িয়ে ধরলেন। 

সেদিনের সেই দৃশ্যটা এখনো অনেকেরই মনে আছে। টেলিভিশনে দেখা/দেহের মধ্যমায় স্ফিতি, ঘাড়ে গর্দানে সমান, প্রচুর ঘর্মাক্ত পাঞ্জাবী, সোমেন মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ডান দিকে বসে আছেন। চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। মমতা বলছেন – সোমেনদা কে তৃণমূলে নিয়ে নিলাম। সোমেন বলছেন, ওর গলা বুজে যাচ্ছে, এখনকার কংগ্রেস আমাকে বড় হেনস্থা করেছে। ওদের সঙ্গে থাকা যায় না। তবে আগে একটা দল করেছিলাম কিছু হল না। এখন মমতাই ভরসা। সত্যি মমতা বরদায়িনী হয়ে উঠে, ওকে শুধু তৃণমূল দলেই নেন নি। ওকে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে ২০০৯ সালে সংসদ নির্বাচনে অনেক ভোটে জিতিয়ে এনেছিলেন। উনি কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন যে উনি সাংসদ নির্বাচিত হতে পারবেন। এখন আবার কংগ্রেসে ফের দেখে মনে হতেই পারে উনি কংগ্রেস এবং সিপিএম-এর ‘ট্রোজান হর্স’ ছিলেন। 

যে কোন দলই কিছু ভুল ভ্রান্তি করতেই পারে। সোমেনবাবু কি ভেবেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওর সঙ্গে যুক্তি করে কোন পদক্ষেপ নেবেন। সব সময় সোমেনদা সোমেনদা ঢপ কীর্তন করবেন! উনি যানেন না যে একটা দলের সদস্য হয়ে বড় জায়গায় গেলে, দলের প্রতি অটুট আনুগত্য নিয়ে যা কিছু করবার তাই করবেন। সিপিএম এবং কংগ্রেসকে খুশি করবার জন্য দেখ-না-দেখ প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে দলের প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। 

সিপিএম আর কংগ্রেস-এর পশ্চিমবঙ্গীয় চুনোপুটিরা সারদা চিট ফান্ড নিয়ে যে কথা বার্তা বলছে উনিও ঠিক তাই বলে একজন প্রায় নিষ্কর্মা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সিজার-এর স্ত্রীর চেয়ে নিজেকে সৎ প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন। মমতা ওকে রাজনীতিতে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সেই বোধ থেকেও তো মমতার সঙ্গে কথা বার্তা বলে ব্যপারটা সত্যি কি তা জানতে চাইতে পারতেন। সেদিন একটামাত্র সংবাদপত্রের ব্যানার হেডলাইনে দেখলাম – সোমেন মিত্র জনস্রোতে ভেসে বিধান ভবনে গেলেন। তাইতো হবার কথা। ওই দেহ এবং তার মধ্যমার স্ফীতি নিয়ে হাঁটা তো দুরূহই, সারা জীবন সংগঠন করতে গিয়ে যেমন লোকের ঘাড়ে চেপে থেকেছেন, কংগ্রেস-এ ফিরে আবার তাইতো হবার কথা। মমতা ওকে আর টিকিট দেবেন না এই ভাবনা থেকেই তৃণমূলকে কিছু ক্ষতির চেষ্টা করে পুরনো ঘরানায় ফিরলেন। তবে ওকে শূন্যতায় ঝুলে থাকতে হবে।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map