M3 Views

মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিকে সামনে রেখে দীপার তিনদিনের অনির্দিষ্টকালের অনশন

অমিয় চৌধুরী  | February 3, 2014

গান্ধীমূর্তির পাদদেশে যখন কেউ অনশন করতে বসেন তখন অবশ্যই তিনি তার অন্তর্দেশ আয়নার সামনে একবার দাড় করিয়ে দেবেন এমনটাই কাম্য। অবশ্য গান্ধীমূর্তির সামনে নয় দলীয় দপ্তরেই চার চারজন কংগ্রেস এর স্থানীয় নেতা আজীবন অনশনে বসেছিলেন, মাত্র তিন দিনের জন্য। নির্ভর করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায় এর ওপর। কংগ্রেস এর ওপর মহল অর্থাৎ হাই কমান্ড, অন্যভাবে বললে সোনিয়া গান্ধীর, অনুমোদন নিয়ে প্রণববাবু বার্তা পাঠালেন ঠিক আছে। পরীক্ষা মূলক ভাবে দেখো তৃণমূলের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে আয়নায় নিজেদের এবং পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিকভাবে কংগ্রেস-এর মুখ দেখে নাও। ২০১০ সালের কথা। আশিটি কর্পোরেশন এবং মিউনিসিপ্যালিটি নির্বাচন। ২০০৯ সালের সংসদীয় নির্বাচন এবং তার পরেও কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস-এর সঙ্গে আসন সমঝোতা করেই চলছিল। এদের মধ্যে একজন, কংগ্রেস থেকে গঙ্গাজলে মাথা ধুয়ে তৃণমূল কংগ্রেস-এ ভিড়েছিল এবং বিধানসভার নির্বাচনে জিতেছিল। পরে মমতা বিদ্বেষ হেতু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আবার কংগ্রেস-এ। তিনি নিজেকে আবার একটু লেখাপড়া জানা ভাবতে ভালোবাসেন, তার গর্জনই ছিল সবচেয়ে বেশি। একা লড়ে তৃণমূলকে একটু শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন আর কি! ফল কি হল! কংগ্রেস এর ভোট শতকরা চোদ্দ থেকে নেমে এল দশ শতাংশে। আর শুধু কলকাতা কর্পোরেশন ধরলে তৃনমূল পেলো ৯৫টি আসন আর কংগ্রেস ১০টি। সেই জন্যেই হাই কমান্ডের ধমক খেয়ে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুর শুর করে ফিরে আসেন। আর তৃণমূল কংগ্রেস এর সঙ্গে আসন রফা করে ৪২টি আসন পান। যা নাকি সিপিএম এর থেকে দুটি বেশি।

এ সব পুরনো কথা। এখন আর জোট নেই। আবার এসে গেলো ২০১৪র সংসদীয় নির্বাচন। সিপিএম এই বঙ্গে প্রায় নির্বিষ। তবুও কংগ্রেস তাদের হাত ধরতে পারে। কেননা কংগ্রেস-এর স্বাভাবিক মিত্রই সিপিএম। কিন্তু তাতেও রক্ষে নেই। এবার আক্রমন দ্বিমুখি। ওদিকে নরেন্দ্র মোদী এবং তার কিছু জোট সঙ্গী আর এদিকে উত্তুঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যার সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা এবার অন্তত ৩২টি আসন পাবেনই। অন্তত ভোটের অঙ্ক তাই বলছে। বঙ্গীয় কংগ্রেস ভীত সন্ত্রস্ত। কোন আসনই আর নিশ্চিত নয়। এমনকি মুর্শিদাবাদের রবিনহুড অধির চৌধুরীও নিচের হাতে বল করছেন। আর রায়গঞ্জের দীপা দাশমুন্সি একান্তভাবে প্রিয়রঞ্জনের প্রক্সি হয়েও আসনটা বোধ হয় ধরে রাখতে পারবেন না। অতএব একটা পথ বার করতে হল। 

অল ইন্ডিয়া ইন্‌স্টিটিউট অফ মেডিকাল সায়েন্স-এর ধাচে রায়গঞ্জে একটি ‘এইমস’ গড়তে হবে। দাবিটা পুরনোই তবে কংগ্রেস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে আসায় এই দাবিটা গভীর গাড্ডায়। অন্যদিকে কংগ্রেস-এর সমর্থক সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। অতএব একটা অবান্তর দাবি। কোন মেট্রোপলিটান শহর ছাড়া অথবা মূল শহরের কেন্দ্র থেকে অল্প দূরত্ব ছাড়া এইমস্‌ নামক একটা বিশ্বমানের হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল শিক্ষা কেন্দ্র হয় না। আর যদি হয়ও, তবে মহামূল্যবান যন্ত্রসামগ্রী নিয়েও, সুপার স্পেশালিস্ট ডাক্তারের অভাবে সেটি কিছুটা উন্নত আধা শহুরে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়েই থাকবে। মাথা থেকে ওর দিল্লী, চণ্ডীগড়, আমেদাবাদের উদাহরণগুলো উড়ে গেছে। এদিকে শিরে সংক্রান্তি ২০১৪র নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ২/৩ মাস। একটা জম্পেশ ইস্যু নিয়ে যদি রায়গঞ্জের ভোটারদের মন জয় করা যায়! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে শিখে (উনি অবশ্যই অস্বীকার করবেন) অনন্তকালের জন্য অনশনে বসো। আর উনি তো জানেন আসলে অনশন কদিনের! এবং তার পরেও ওর গা পুড়ে যাবেনা। বৃহৎ ম্যাচিং বিন্দিও খসে পড়বে না। অবশ্যই লক্ষ্য করবার বিষয়। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর কলকাতা আসার দিন অনেক আগে থেকেই ঠিক ছিল। প্রিয়বাসিনী দীপা অনশনে বসলেন তিনদিন আগে। এই জন্যেই এই নিবন্ধের শুরুতে বলা হয়েছিল গান্ধীমূর্তিকে অবমাননাকর অবস্থায় ফেলা হয়েছে! আর দীপা দাশমুন্সি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নন। তিনদিন অনশন করে অবশ্য কারো চেহারা টুসকে যায়ও না। দীপা মুন্সি দাশমুন্সিতেই আছেন। আহা অনশন বলে কথা। তাও আবার গান্ধীপথে। কংগ্রেস-এর যে কটি নেতাকে আজকাল টিভিতে বড় বেশি দেখা যায়, তারা এলেন। জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন। রায়গঞ্জেই এইমস্‌ চাই। কৃষকরাও জমি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু রাজ্য সরকার ছাড়পত্র দিচ্ছে না। নির্বাচনের আগে এই গরম ইস্যুটাকে ‘মাইক্রোওয়েভ’-এ রেখে দিয়ে মাঝে মাঝেই রায়গঞ্জের ভোটারদের কাছে তুলে ধরতে হবে। সামনে এক ম্রিয়মান প্রদীপ ধরে কিছু নেতা রাজ্যসরকার এবং তার “দুর্নীতি এবং একদেশদর্শীতার” নানান উদাহরণ দিলেন।

শেষদিনের জন্য তোলা ছিল একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর একান্ত শ্রদ্ধেয় কিন্তু পরে পাল্টি খাওয়া বিদ্বজন প্রাক্তন অধ্যাপক সুনন্দ সান্যাল। ওর কথা গলায় কথা আটকে যাওয়া, প্রায় অসংলগ্ন। অথচ মমতা বিরোধিতায় সুনন্দবাবু কংগ্রেস, সিপিএম সবারই হাত ধরছেন। ডাহা মিথ্যা বলছেন সময়মত। সব জায়গায় বলে বেরান – এ মমতা সে মমতা নয়। মমতা ওনার  বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। নিজের কথা বলতে গিয়ে বললেন- তিনি কখনই মমতার সম্বর্ধনা গ্রহণ করেননি। এবং আরো নানান কথা বলে থামলেন। ততক্ষণ শ্রীমতী প্রিয়বাসিনী দীপা দেবীর খিদেয় পেট জ্বলছে। নেতারা সামনে প্রদীপ ধরে, রাজভবনে গিয়ে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী কে ধরেন। শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন দীপাকে। সময়টা হিসেব করেই নিয়েছিলেন সদ্য তৃণমূল ছাড়া প্রাক্তন কংগ্রেসী সেই সোমেন মিত্র এসে হাজির হলেন। সব জায়গায় যেমন, এখানেও তেমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃনমূল কংগ্রেস এর গুষ্টির তুষ্টি করলেন। করবেনই। কেননা মাইনে বাবদ এবং অন্য সুযোগ সুবিধাগুলো যা মমতার দয়ায় সংসদে গিয়ে গত প্রায় পাঁচ বছরে পেয়েছিলেন, সেই লক্ষ লক্ষ টাকা ততোদিনে হজম হয়ে গেছে। তিনিই পরম স্নেহে দীপার হাতে তুলে দিলেন ফলের অমৃত রসের গ্লাস। অনশন খতম। গান্ধী মূর্তির সামনেই একদা অভিনেত্রী দীপা দেবীর তাৎক্ষনিক নাটক-এর যবনিকাপাত মনে হয় অবশ্যই আপাতত।


< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map