M3 Views

একই সঙ্গে সিপিএম’র মুখোশ আর মুখ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

অমিয় চৌধুরী  | February 13, 2014

জানুয়ারি ৩০, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিগেড্‌ প্যারেড গ্রাউন্ড বা ময়দানে এক সভার আহ্বান করেছিলেন। জুলাই ২১ এর শহিদ দিবস এবার (২০১৩) ঠিক সময়ে ডাকার অবস্থা ছিল না পঞ্চায়েত ভোট এবং নানাবিধ কারণে। সেদিন সমস্ত ময়দান ভর্তি সে এক জনঅরণ্য। মমতা এখন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সভা ডাকলে সব সময়ই বিপুল জনসমাগম হয়। ব্রিগেড, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বা গান্ধী মূর্তির কাছে মেয়ো রোডের সভাতেও সেই একই দৃশ্য। ১৯৯২ সালে অবশ্যই মমতা কংগ্রেস দলে ছিলেন। উনি আস্তে আস্তে বুঝতে পারছিলেন ওর সেই ওর সেই দল আপোষকামী এবং বামফ্রন্টের অনুগ্রহ লোভী। আজও তারা তাদের অবস্থান পালটায়নি। তবু বামফ্রন্টের মৃত্যু ঘণ্টা বাজাতে ময়দানে জমায়েত চেয়েছিলেন। ময়দান অর্থাৎ ব্রিগেড গ্রাউন্ড আকারে তখন অনেক বড় ছিল। সেই মৃত্যু ঘন্টা বাজাতে কম করেও দশ লক্ষ লোক হয়েছিল। তার পরেই প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তী, যিনি সিপিএম-এর ময়দান ভরাবার যন্ত্র ছিলেন। ময়দানে সভা ডাকেন আর স্লোগান তোলেন – আয় মমতা/ দেখে যা/ সিপিএম’র ক্ষমতা। তারপরে অবশ্য সুভাষ দল ছাড়বেন ভেবে মমতাকে সম্বোধন করেছিলেন। ভগ্নীসমা মমতা। সিপিএম-এর অন্দরে এই নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। সে এক ইতিহাস। 

 ফেব্রুয়ারি ৫ এ মোদী জনসভা করলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। রাজনীথ সিং এই রাজ্যের অর্থনৈতিক হাল তুলে ধরে কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারকে এক হাত নিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সিপিএম এবং কংগ্রেস মহলের ছোটখাট নেতারা মমতার ওপর সাম্প্রদায়িক মোদীর আরোপ করলেন ওদের পছন্দমতো টেলিভিশনে বসে। এই সব ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই, তৃণমূলের লোক এবং সমর্থকদের নাক সিঁটকিয়ে অগ্রাহ্য করাই ভালো। হয়েছেও তাই। এই রাজ্যে বিজেপির এককভাবে ৫/৬ শতাংশ ভোট আছে। তাদেরকে লক্ষ রেখে মোদী এবং তার দল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে ৪২টি আসনই দাবি করে গেলেন। মোদীর অঙ্কের বিচারে মমতাকে তো শূন্য আসন দিতে চাইলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া প্রদীপ বা অধীর–এর কংগ্রেস, বাংলায় ভোট পায় মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ। এবার হয়তো আরো নেমে যাবে। আসন সংখ্যা তো ছয় হবেনা। অতএব সিপিএম তথা বামফ্রন্টের সঙ্গে আঁতাত (যা এখন আর গোপন নেই) করতে তিনটি আসন রাখতে পারলেও যথেষ্ট মনে করবেন। তবে মুর্শিদাবাদের অধীর চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি হয়ে কি করেন – আগামী দিনে দেখা যাবে। মজার হল কয়েকজন জোটসঙ্গী নিয়ে সিপিএম-এর ময়দানী জনসভা। জনসমাগম কিন্তু খুব একটা হেলা ফেলার নয়। যদিও যারা সভায় এসেছিলেন তাদের অনেক লোকই জানতেন না সভাটা কিসের। বহুলোকই সিপিএম-এর পয়সায় গ্রাম থেকে কেউ প্রথমবার কেউ দ্বিতীয়বার কলকাতা দেখার সুযোগ পেলেন। ময়দান কলুষিত করে হাঁড়ি, ডেকচি স্টোভে রান্না খিঁচুড়ি-লাবড়া খেলেন, কেউ বা ফুচকা আর অনেকেই ঢেকুর তুলতে তুলতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখে কাটালেন। সভা শেষে ডাক পেয়ে যে বাসে এসেছিলেন সেই বাসে চলে গেলেন। 

 মাঠ ভর্তি লোক, মাঝে মাঝে কোথাও একটু ফাঁকা। বিমান বসু তার স্বভাব সুলভ রসিকতায় বললেন – ওদের অর্থাৎ তৃনমূলের টিভি চ্যানেল এসে দেখে যাক – এখন টাকে চুল গজিয়ে গেছে। বিরোধী নেতা সূর্যকান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারকে চার্জসিট্‌ দিলেন। বুদ্ধবাবু বললেন – এবার ঘুরে দাঁড়াবার দিন আসন্ন। বঙ্গীয় কংগ্রেস সম্বন্ধে টু’শব্দটি উচ্চারণ করলেন না। শুধু হাত নেড়ে গালাগালি পাড়লেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরকার কোন কাজই করে নি। অবশ্য এই সব অমৃতবাণী পরিবেশন করবার সময় বুকে হাত দিয়ে ওদের রাজত্বের চৌত্রিশ বছরগুলো আয়নার সামনে তুলে ধরেননি। বুদ্ধবাবু আপনি বক্তৃতা মঞ্চে গলার শিরা ফোলান আর মাথা নেড়ে শুধু লম্ফ ঝম্প করে সময় ভরেন। একবার আপনার সহযোদ্ধা সূর্যকান্ত মিশ্রের দিকে তাকান। তবু আপনার মানুষ কেন যে মাথা ভেঙ্গে দেওয়ার তুর্জনীনাদি আপনাকেই সিপিএম-এর মুখ বলে ভাবে! আপনারই আশ্চর্য হওয়ার কথা। নিজের মুখটা প্রতিদিন আয়নায় দেখেন তো। কোনটা আপনার আসল আর কোনটা নকল বোঝা দায়। 

 সংসদীয় নির্বাচন প্রায় এসে গেল। কান্নাকাটি করে ভোট জোগার করতে হবে। লাঠির জোরে এতদিন এই কাজগুলো করিয়ে নিএছেন, এখন নিপাত্তা অনুজ পান্ডে, ডালিম পান্ডে, জেলখাটা সুশান্ত ঘোষ, সুকুর আলি, তপনদের নিয়ে। এখন ওরা কেউ কেউ নিরুদ্দেশ আর দীপক সরকারদের মত মানুষ একটু যেন গুটিয়ে গেছে। নেতাইগ্রাম কান্ডের কথা আপনিই তুলেছেন পশ্চিম মেদনীপুরের এক সভায়। ২০১১ সালে জানুয়ারি ৭, লালগড়ে রথীন দন্ডপাতের বাড়িতে আপনারা আশ্রয় দিয়েছিলেন ওই সব মণি মানিক্যদের। গোলাগুলি চালিয়ে, খিস্তিখেউড় করিয়ে গ্রামের লোকগুলিকে চিরদিনের মত দমিয়ে রাখতে। শেষকালে গ্রামের কিছু লোক রুখে দাঁড়ালে আপনার দলের আশ্রিত ক্যাডাররা গুলি চালিয়ে চারজন মহিলাসহ ন’জনকে খতম করে দিলো। ঠিক চারদিন পরে আমরা যখন দেখতে গেলাম দেখা গেলো বড় বড় চুল লেগে থাকা শুকনো ঘিলু দেওয়ালের গায়ে লেগে আছে। তবে পরবর্তীকালে, পুলিশ শান্ত্রি মন্ত্রী নিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন কি? অথচ মেদনীপুরের সভায় গলা ফুলিয়ে বললেন – আমাদের ছেলেরা ভুল করেছে। ভয়ঙ্কর ভুল। আপনি তো ভুলের ভুলভুলাইয়া। আপনার দল ভয় পেয়েছিল পাছে ওই অনান্তরিক বাক্যের কিছু অংশও ভুল করে ব্রিগেড এর সভায় বলে ফেলেন। না আপনি শুধু বলেছেন – তৃণমূল আর মোদী ভয়ংকর সাম্প্রদায়িকতা টেনে আনছে। সাবধান।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map