M3 Views

‘নান্‌ অফ দি অ্যাবভ’(নোটা) ভোটের মূল্যায়নের সময় এখনি আসেনি

অমিয় চৌধুরী  | April 9, 2014

যারা গত বছরে শেষের দিকে রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিসগড় এবং মিজোরাম বিধানসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোট নিজে দিতে গিয়েছিলেন তারা অবশ্যই ভোট যন্ত্রে একটা নতুন বোতাম টিপেছেন বা অন্য বোতাম টিপেছেন, তারা নোটা চিহ্নিত বোতাম এর সঙ্গে পরিচিত। সারা দেশবাসী আগামী ৭ এপ্রিল প্রথম দফা ভোট দিতে গিয়ে ভোট যন্ত্রের এই সংযোজনটি লক্ষ্য করবেন। নোটা শব্দটি হল ‘নান্‌ অফ দি অ্যাবভ’। অর্থাৎ ভোটার ইচ্ছে করলে তার ভোটটি দিতে পারেন নোটা বোতামে। যিনি এই বোতামটি ব্যবহার করছেন- অর্থাৎ ভোটযন্ত্রে যে নামগুলো আছে দলের প্রার্থী বা স্বতন্ত্র হিসেবে, তিনি কারুকেই পছন্দ করছেন না। ভোট যন্ত্র চালু হওয়ার পর থেকে এক দল শহুরে বুদ্ধিজিবী এবং কিঞ্চিৎ নাক উঁচু, তারা কোন রাজনীতির দল বা প্রার্থীকে পছন্দ করছিলেন না। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে সেই ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই ব্যাপারটি ঘটেছে ব্যাপকভাবে। আর কিছু নিতান্ত একটা অলস দুপুরে বাড়িতে ভালো খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেন, ভোট কেন্দ্রমুখী হন না। তারাও কিন্তু পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় যারা আসীন, অনুপস্থিত থেকে তাদেরকে ভোট দিয়ে দেন। যাকে আমরা নেতিবাচক ভোট ও বলতে পারি। ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া একটা বিশেষ মনোভাব থেকে আসে। অর্থাৎ আবার ঝামেলা করে কি হবে, যা চলছে তাই চলুক না। গনতান্ত্রিক দেশে উচ্চপদস্থ সরকারি আমলাদের মধ্যে এই ধরণের মানসিকতা প্রায়শই দেখা যায়। আর যারা সংসদীয় গনতন্ত্র কে অনাস্থার চোখে দেখেন এবং ভোটকেন্দ্রে যান না। গনতান্ত্রিক যে কোন প্রক্রিয়ায় তাদের অনাস্থা, নোটা থাকুক কি না থাকুক। ভোট ব্যবস্থায় সামাজিক বা রাজনৈতিক কোন মৌলিক পরিবর্তন আসে না। এমনটা ভাবেন। এদের মধ্যেও অবশ্য এখন একদল এটা সেটা দল করে ভোটের ময়দানে চলে আসেন।

‘নোটা’ বোতাম সংযোজনে ভোটযন্ত্রের জটিলতা একটু বাড়ে সন্দেহ নেই। তবে প্রক্সি ভোট বা ছাপ্পা ভোট অন্তত কিছুটা ‘নোটা’ ভোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

একটা উদাহরণের সাহায্যে নোটা বোতাম সংযোজন এর মূল্য এবং তার ফলের বিচার করা যেতে পারে। ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে বেশ কয়েকমাস আগে ছোট বড় পাঁচটি অঙ্গ রাজ্যে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল যেমন মিজোরাম সবচেয়ে ছোট, তার ওপরে ছত্তিসগড়, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ। সাধারণ ভাবে ধরলে এই পাঁচ অঙ্গ রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা বড়জোর ১৫ থেকে ১৬ কোটি। ভোটের বাক্স খুলে দেখা গেলো পাঁচ রাজ্যের নোটা ভোট ছিল মাত্র এক শতাংশ(১%)। পাঁচ রাজ্যে গড় করলে দাঁড়ায় দশমিক দুই শতাংশ (.২%)। এবার দেখতে হবে সারা দেশে ৮১ কোটি ভোটার। বৈধ ভোটের কত শতাংশ ‘নোটা’ বোতাম টেপেন, মনে হয় একটা অনুমান অবশ্যই করা যায়। এই জন্যই বোধ হয় নির্বাচন কমিশন প্রায় আদা জল খেয়ে প্রচারে নেমেছেন যাতে যত বেশি সংখ্যক ভোটারকে নির্বাচন কেন্দ্রে আনা যায়।

কমিশনের হাত থেকে স্কুলের ছেলে মেয়ের হাতে ভোট দেওয়ার প্রতিজ্ঞাপত্র ওদের বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। যে কাজটি কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আওতায় আসে না। কি আর করা যায়! ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকে নির্বাচন কমিশনই যে সমগ্র প্রশাসনের অধিকর্তা। এমনিতেই আমাদের রাজ্যের অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে প্রদত্ত ভোটের গড় শতকরা ৭৯/৮০। অবশ্য সমগ্র ভারতে এর গড় মাত্র ৬০ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন অবশ্যই চাইতে পারে সমগ্র দেশের অধিকাংশ মানুষকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় করে তুলতে। তবে সেটা সাধারণ ভাবে প্রচারের মাধ্যমে অনেকটাই সম্ভব ছিল। আবার অনেকের একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে নতুন ভোটার যারা তারা আসতে আসতে কেরিয়ার সর্বস্ব হয়ে গেছে। এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজনীতি থেকেই দূরে থাকতে চায়। ঘটনা সম্পূর্ণ অন্যরকম। তাদের উৎসাহই বরং দেখবার মতো। তারা সর্বক্ষেত্রেই ‘নোটা’ বোতামে হাত দেবে বলে মনে হয় না।

২০০৮ সালে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে প্রথম এই ধরণের একটা ধারা প্রবর্তন করা হয়। ওরা অবশ্য করেছিল ‘নো ভোট’, অর্থাৎ আমি গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সামিল হচ্ছি কিন্তু কাউকেই ভোট দিচ্ছিনা। সেখানেও প্রত্যক্ষ করা গেছে- এই ‘নো ভোট’ এর পরিমাণ প্রায় শতকরা হিসেবের মধ্যেই আসেনি। বাংলাদেশে ২০০৮ নির্বাচনে যারা প্রথমবার ভোট দিচ্ছে তাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। এদের অধিকাংশই একটা নির্দিষ্ট দলকে অর্থাৎ আওমি লিগকে ভোট দিয়েছিল। তারই ফলশ্রুতি শেখ হাসিনার বিপুল জয়। ভারতবর্ষেও ভাববার কোন কারণ নেই যে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা নাক উঁচু করে ‘নোটার’ বোতাম টিপে তাদের রাজনীতিকরণকে অগ্রাহ্য করবে। তবুও ‘নোটা’ ভোটের একটা বাড়তি সংযোজন কে মূল্যহীন ভাববার কারণ দেখিনা।

বাংলাদেশ ছাড়াও অনেক আগে থেকে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ‘নো ভোট’ সংস্থান করা আছে- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য নেভাদায়, ইউক্রেন, স্পেন, কলোম্বিয়া এবং রাশিয়া। কিন্তু মজা হল এই যে ১৯৯০ এর দশকের প্রথম লগ্নে রাশিয়া ‘নোটা’ ভোটের প্রবর্তন করলেও ২০০৬ সালে এই প্রকরণটি তুলে দেয়। ২০১৩ থেকে পাকিস্তান ও ‘নোটা’র প্রচলন করে। তবে পাকিস্তানের থমকে যাওয়া গনতন্ত্রে এই ধরণের প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত হবার সুযোগ আসেনি। জনপ্রতিনিধিমূলক আইনে এক সংযোজনীর দ্বারা ভারত ‘নোটা’ ভোট প্রবর্তন করেছে। শেষ বিচারে এর কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে বোঝার এমনি সময় কেটে যায় নি। শুধু দেখতে হবে সময়টা কতদূরে।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map