M3 Views

২০১৪-র সংসদীয় নির্বাচন: বিজেপি এবং

অমিয় চৌধুরী  | May 22, 2014

এই কলমে মনে হয় শেষ লেখা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- এর ক্যারিশ্মা মমতা মূখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রভূত কাজ করেছেন আমরা-ওরার বিচার করেননি অগাধ প্রাণশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম করে সারা রাজ্য ঘুড়ে ফেলেছেন একবার নয় বহুবার এই ধরণের মূখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আর দেখা যায় নি অথচ দেখুন, অতি উঁচু স্তরে নাক উঁচু বুদ্ধিজীবী মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের মাত্র দশমিক এক শতাংশ (.১) মমতা এবং তার দলকে ভোট দিতে চান না অবশ্য এই অবস্থাটা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে আর থাকবে বলে মনে হয় না এর প্রমাণ শুরু হয়েছে মে ১৬, ২০১৪ নির্বাচনের ভোটগননার সময়ই

মমতা ২০০৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে কংগ্রেস-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েও আসন পেয়েছিলেন মাত্র ১৯টি এই ১৯ জনের মধ্যে বিশ্বাস হন্তা ছিল দুই ব্যক্তি এবার তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন একজন একা দাঁড়াতে সাহস করেননি যদিও তিনি অন্য বিচারে গুণী ব্যক্তি আর একজন নির্গুণ, কংগ্রেস এর টিকিটে দাঁড়িয়ে গোহারা হয়ে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে গেলেন অর্থা বিজেপির তো পরেই, এই মুহূর্তে জমিহারা সিপিএম-এরও পরে তবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৪টি আসন পেলেন বহু অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জিতিয়ে আনলেন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংসদীয় আসনে দাড় করানোয় অনেক বোদ্ধারা হাসি মস্করা করেছেন কিন্তু দিনের শেষে তারা তাদের মনোকাঠামোয় তীব্র এবং যোগ্য জবাব অনুভব করে একদম চুপ হয়ে গেছেন আসলে মানুষতো মমতা-ভোট করেছে মমতা নামক প্রতীককে মাথায় রেখে

কংগ্রেস দলও একা লড়ে তাদের শোচনীয় অবস্থাটা বুঝতে পেরেছে (মমতার সঙ্গে থেকে ১৫ শতাংশ থেকে একা লড়ে সাড়ে সাত শতাংশে নেমে এসেছে) গত বারের ছয় থেকে এবারে চার পশ্চিমবঙ্গীয় জাতীয় কংগ্রেস বোধ হয় এতদিনে তাদের অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগতে শুরু করেছে তবে কয়েকটি বাংলা ভাষা বাছা বাছা টেলিভিশন চ্যানেলে বসে এখনো লম্বা চওড়া বাতেলা মেরে যাচ্ছে মনে করা গিয়েছিল

সিপিএম অন্তত কিছুটা হলেও তাদের সংগঠনটা রক্ষা করতে পেরেছে কিন্তু হয়নি আসলে ওদের শুরু হয়ে গিয়েছে নেতৃত্বের অস্তিত্ব সঙ্কট কোনোমতে সিপিএম অতি অল্প ভোটের ব্যবধানে জিতেছে মাত্র দুটি আসনে মালদা এবং মুর্শিদাবাদে বামফ্রন্টের শরিকরা শূন্যে নেমে এসেছে ওদের এগারো শতাংশ ভোট দখল করে নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ওরা কংগ্রেস এবং কিছু অংশে তৃণমূল কংগ্রেস এর ভোটে তিন, দুই শতাংশ ভাগ বসিয়েছে সাধারণত বিজেপির ভোট শতাংশ গড়ে ৫-৬ এর বেশি নয়। একবারমাত্র এগারো শতাংশে উঠেছিল। ১৯৯৯ সালে দুটো সংসদীয় আসনও পেয়েছিল। গত বিধান সভা নির্বাচনে ওদের ভোট শতাংশ নেমে এসেছিল তিনে। এবার বিজেপি দুটি আসন পেয়েছে তবে ভোট শতাংশ বাড়িয়ে নিয়ে গেছে ১৭.৫ শতাংশে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির এই উত্থান অভূতপূর্ব। এবং খানিকটা ভয়েরও বটে। কেননা পশ্চিমবঙ্গে এখন মুসলিম জনসংখ্যা ৩১ শতাংশ। বামপন্থীরা বা কংগ্রেস মুখে যাই বলুক না কেন, যত ধর্মনিরপেক্ষতার বুলি ঝাড়ুন, এই বিরাট সংখ্যক মুসলিম ভোটের দিকে যথেষ্ট মনোযোগী পদক্ষেপ নেন বিশেষ করে যে কোন নির্বাচন কালে। এই সব ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কোন রাখ ঢাক নেই। মুসলিম সমাজের অবহেলিত মানুষজনের পক্ষে তিনি দরদী মনোভাব নিয়েই অগ্রসর হন। সর্বধর্ম সমন্বয়-এর মাধ্যমেই সামাজিক ন্যায় বিচারের পক্ষে দাঁড়ান।

এই সংসদীয় ভোটের একটা অঙ্ক যে ২০১৬ বিধানসভা ভোটে এক প্রলম্বিত ছায়া ফেলবে না তা বলা যায় না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। ২০১৪ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্রভাই মোদীর যে প্রচারের আগ্রাসন সেটা কংগ্রেস বা বামপন্থীরা বোঝেন নি। আর বুঝলেও ভেবেছিলেন ভোট কাটাকাটি অঙ্কে একমাত্র লোকসান তৃণমূলের। অতএব ওই দুদলের বিজেপিকে আক্রমনের ধাঁরও ততো প্রকট ছিল না। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এটা অনুমান করেছিলেন সম্ভবত। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ওঠা পড়ার মধ্যে দিয়ে উনি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের অনুভব থেকে কাজ করে যান। ওর কাজ নৈতিক চলমানতাকে প্রণিধান এবং নীতির প্রায়োগিক কৌশল অবশ্যই এই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয়।

নির্বাচন শুরু হয়েছিল ২০১৪'র এপ্রিল ৭ থেকে আর শেষ হয় মে মাসের ১২ তারিখে। এই দিনগুলোতে উনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। প্রচারের কাজে বারবার এই রাজ্যের দক্ষিণ থেকে উত্তর আর পশ্চিম থেকে পুবে বার বার ছুটেছেন। রাজনৈতিক আক্রমণ করেছেন বামপন্থী দলের নেতৃত্বকে, ক্ষীয়মাণ কংগ্রেসকে। এদের সম্মিলিত জোটরা ওর কথায় 'সিন্ডিকেটকে'। তবে অবশ্যই আক্রমণের তীক্ষ্ণতার অভিমুখ ছিল রাজ্য বিজেপির দিকে। এটা না হলে এই বঙ্গে বিজেপির আসন আরো দুএকটি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

২০১৪র সংসদীয় নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতির এক জলবিভাজিকা। বিজেপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসীন হচ্ছে নরেন্দ্র ভাই মোদীর নেতৃত্বে। সঙ্গে নিচ্ছে এনডিএর অপর শরিকদেরকে। বিজেপির উদ্বৃত্ত সংখ্যা গরিষ্ঠতা (২৮৩) আর সম্মিলিত ভাবে এনডিএ'র সংখ্যা ৩৩৫। ১৯৮০ দশকের পর এই প্রথম একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল ক্ষমতায় এল। সরকারের স্থিতি স্থাপকতা বাড়লো। কিন্তু এখনি বলা যাবে না প্রশাসন যন্ত্র সুশাসনের দিকে এগোতে পারবে কিনা। এখানে অবশ্যই থাকা দরকার একটা শক্তপোক্ত বিরোধী দল বা দলগোষ্ঠী।

সরকার গঠনে তৃণমূলের কোন আপাত ভূমিকা নেই। তবে ওড়িশার নবীন পট্টনায়ক-এর বিজেডি, জয়ললিতার এআইডিএমকে এবং ৩৪টা আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং দলতন্ত্র আর অবশ্যই ধর্মীয় আবেগকে সংযত করতে সক্ষম হবে। যদি তাই হয় তবে সেটাই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সময়ের জাতীয় স্তরে প্রধান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং অবদান।

< Back to List

 
Comments (1)
 
Pranab Hazra Reply
May 31, 2014
The insurgence of B.J.P in the last election in W.B is not only unprecedented,as u stated but also undesirable & alarming.The dual fight of Mamata & Modi had polarized the voter of W.B from the political & communal insecurity & practices of the left to divide anti left vote & to win has failed for this time.We have to remind it that,this is the left who has always helped B.J.P to reach up to that point from where dividing the anti left vote would help them to win. But this time that strategy plays bumerung,when the anti Trinamool vote devide themselves by transfering the loyality of left supporters to the B.J.P.
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map