M3 Views

রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কোর্ট কাছারি করার উদ্দেশ্য অনুমান করা খুব একটা শক্ত নয়

অমিয় চৌধুরী  | July 2, 2014

আবার রাজ্য ইলেকশন কমিশনার। শ্রীমতী মীরা পান্ডে এই তৃতীয়বার রনংদেহি মূর্তিতে রাজ্যের হাইকোর্টের দ্বারস্থ। যাওয়ার বেলায় মহিলা স্মৃতিসুধায় ভরিয়ে যেতে চান না। অবশ্য তার পছন্দের কর্তারা ক্ষমতায় থাকলে খুব মোলায়েম চোখে হয়ত সেই কাজটি করে যেতেন। তবে এখানেই প্রশ্ন। সিপিএম-এর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট এর ২০১১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকলে মীরা পান্ডে মহাশয়ার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চীফ্‌ ইলেকশন কমিশনার হওয়ার কতটুকু সম্ভাবনা থাকতো সেটাও ভেবে দেখার।

কোয়াপরেটিভ অর্থাৎ সমব্যায় দপ্তরের সচিব হিসেবে অনেকেই খুব কাছ থেকে ওর দপ্তর পরিচালনা দেখেছেন। জনসাধারনের স্বরণে থাকবে কোন সমব্যায় দপ্তরের কোন অ্যাকাডেমিক মিটিঙেই উনি ওর উপস্থিতির নজির রাখেননি। খুদে দুঁদে আই এ এস অফিসার হিসাবে কোন দক্ষতার নজিরও রেখেছেন বলে মনে হয়না। এখন দেখা যাচ্ছে উকিলের বাড়ি যাওয়া এবং কোর্ট কাছারি করায় উনি বেশ পোক্ত। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কেন্দ্রীয় চীফ্‌ কমিশনার এর মতই ক্ষমতা ধরেন অবশ্যই নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় চীফ্‌ কমিশনারও এখন এককভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন না সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই। চীফ্‌ নির্বাচন কমিশনারকে একমাত্র সাংবিধানিক পদাধিকারি হয়েও, নির্ভর করতে হয় ওপর দুই কমিশনারের ওপর। সংবিধানের ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর সংবিধান-সংশোধনীতে যখন রাজ্যগুলোকে নকলনবিশির কাজ করতে হয়, তখন রাজ্যগুলোও কেন একজন সাংবিধানিক প্রধান এর সঙ্গে ওপর আরো দুজন কমিশনার জুড়ে দিল না! পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন কমিশনার আর রাজ্য সরকারের এই দ্বৈরথে এই কথাটি মনে আসতেই পারে। তিনজন নির্বাচনী কর্তা থাকলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই প্রধান ইলেকশন কমিশনারকে সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়। মানুষের মনেও এই প্রশ্ন আসতো না, যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন রাজ্যের অঙ্গ নয়। রাজ্যের পয়সায় সব কিছু করবেন, আদালতের খরচও হবে রাজ্যের অর্থে অথচ রাজ্যের কোন মতামত রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মানবেন না। তাকে সব কিছুই করতে হবে আদালতের নির্দেশনামায়। এ এক বিচিত্র নাই-রাজ্যেররাজাধিশের চলা ফেরা।

ভারতবর্ষের অর্থাৎ সমগ্র দেশের ভোট পরিচালনার আগে কেন্দ্রীয় ইলেকশন কমিশন সরকারের সুবিধা অসুবিধা এবং সময় নির্ধারণের কথা মাথায় রেখেই বিশেষত সমগ্র জনগনের স্বার্থ বিবেচনা করেই নির্বাচনের ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়। পশ্চিমবঙ্গের এ এক উলোট পুরান। ২০১৩ সালের ১০টি পুরনির্বাচনের ক্ষেত্রেও মীরা পান্ডে হাইকোর্টের আদেশের দ্বারা অগ্রসর হন। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনতো ইলেকশন কমিশনার মীরা পান্ডে  যজ্ঞে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আর নির্বাচন মিটে গেলে বলেছিলেন- সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এতাবৎকাল অবধি সরকারের বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোট হতে পারে ভেবে সমগ্র বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নির্বাচন পর্ব মিটলে মীরা পান্ডের সুরেই বলেছিলেন সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। নির্বাচনের ফল বেরোতে শুরু হতেই সিপিএম এর নেতৃত্বে কংগ্রেস, বিজেপিও বলতে শুরু করলো- এতো পুকুর চুরি। নির্বাচন কমিশনার ব্যর্থ। নিশ্চয়ই একথা কমিশনকে স্বরণ করিয়ে দিতে হবেনা।

২০১৪ তে ১৭টি পুরসভার নির্বাচন। সাধারণভাবে এই জুলাই মাসেই নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন বলছেন জানুয়ারি মাসের প্রথম থেকে তিনি সরকারকে লিখছেন। নির্বাচন করতে হবে ঠিক সময়েই। একথা ওর মাথায় এলেও- করা যাক না শাসক দলকে একটু বিব্রত! সংসদীয় নির্বাচনের বিশাল প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাচ্ছে। এপ্রিলের ৭ থেকে নির্বাচন চলবে ১৩ই মে অবধি। ফল ঘোষনা ১৬মে। এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় দৌরত্মের কারণে প্রশাসনকে এবং বিশেষ করে  এই বঙ্গের শাসকদলকে প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে থাকতে হল। রাজ্যব্যাপি উন্নয়নের কাজ বন্ধ নির্বাচনী আচরণ বিধির কারণে। সমগ্র প্রশাসন এবং পুলিশ সংস্থার অপ্রাচুর্য। এদিকে নির্বাচন কমিশন সর্বক্ষণ দৃষ্টি রাখছে। জনপ্রতিনিধিরা মন্ত্রী সান্ত্রী সকলেই নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসৎ পাচ্ছেনা।

এই এত বড় নির্বাচন এর এক দেড় মাসের মধ্যেই আবার ১৭টি পৌর সভায় নির্বাচন। এই নির্বাচন পৌর আইন অনুযায়ী ছ’মাস পেছিয়ে গেলেও এমন কিছু ভাগবত অশুদ্ধ হয়ে যায় না। দ্বিতীয় কিছু কিছু পৌরসভা এলাকায় জনবৃদ্ধির কারণে সেগুলির প্রতি সুবিচার করতে হলে পুরসভা থেকে পুর নিগমে পরিণত করা নিতান্ত প্রয়োজন। সেটাও একটু সময় সাপেক্ষ। এই ধরণের পৌর নিগম বা municipal corporation–এর সংখ্যা ৭টি হবে বলে জানিয়েছে পৌর দপ্তর। পাঁচ বছর পরে নিরবাচন। অনেক খুঁটি নাটি ব্যাপারের মধ্যে প্রত্যেকটি পুরসভা এবং নিগমের সীমানা নির্ধারণ ও একটা বড় কাজ। জুলাই মাসেই নির্বাচন প্রয়োজন এই সব পুরসভাগুলির। যেমন মাল, ইসলামপুর, কালিয়াগঞ্জ, গঙ্গারামপুর, হরিণঘাটা, সাঁইথিয়া, এগরা, আসানসোল, কুলটি, ডানকুনি, উলুবেড়িয়া, মধ্যমগ্রাম, রাজারহাট, দমদম, দক্ষিণ দমদম, সোনারপুর, রাজপুর এবং মহেশতলা। রাজ্য নির্বাচন কমিশন এই ১৭টি পুরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত ব্যাপারে রাজ্য সরকার এখনি আগ্রহী নয়, অভিযোগ করে হাইকোর্ট চলে গেছেন। অথচ ১৯৯৩ সালের আইনেই আছে সরকার কোন একটা অজুহাতে যে কোন পুরবোর্ড ভেঙ্গে দিতে পারে। শর্ত ছ’মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। বিহানি( বিরিয়ানি ইত্যাদি) উকিল নিয়ে হাইকোর্টে ছোটাছুটি করছেন।

মাননীয় জজ্‌ সাহেব জয়মাল্য বাগচী মামলা গ্রহণ করে রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিতে বলেছেন ৭ই জুলাই এর মধ্যে এবং প্রশ্ন করেছেন কোন ৭টি পুরসভা পুরনিগম হচ্ছে। এই ৭টি চিন্তাভাবনা করা পুরনিগম হল দমদম, দক্ষিণ দমদম, কুলটি,  মধ্যমগ্রাম, আসানসোল, রাজারহাট, এবং মহেশতলা। বিচারপতি জানতে চেয়েছেন এই সাতটি কে বাদ দিয়ে অপর দশটিতে নির্বাচন করার বাধা কোথায়! রাজ্যকে হলফনামার মাধ্যমে ৭ইজুলাই এর মধ্যে জানাতে হবে। এই মামলায় কি হবে বোঝা যাচ্ছেনা। নির্বাচন কর্ম শুরু হলে শ্রীমতি পান্ডের অবসর গ্রহণ পিছিয়ে যাবে। কেননা ৭ই জুলাই পর্যন্ত ওর কার্যকাল। আগের উদাহরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে শ্রীমতি সুপ্রিম কোর্ট অবধি তাক করে আছেন। এতে লাভ শুধুই পান্ডে সাহেবার। যতদিন মামলা চলবে ওকে অবসর নিতে হবেনা। দ্বিতীয়ত যাওয়ার সময় ওর অপছন্দের সরকারকে একটা আঘাতও করে যাওয়া যাবে।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map