M3 Views

সংবাদমাধ্যমের সন্ত্রাস

অমিয় চৌধুরী  | July 31, 2014

সংবাদমাধ্যম, সে ছাপা থেকে হোক কিংবা টেলিভিসন, দাপটের সঙ্গে নিজের গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে অবিরত চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে নিশ্চয় দোষের কিছু নেই। কেননা সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়ে থাকে। টেলিভিসনের চল একটা সময় এদেশে ততটা ছিলনা। অতএব প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে সব ভয়ানক কান্ড প্রায় নিয়ত ঘটতো, তা সাধারণ মানুষ জানতেও পারত না। খবরের কাগজের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক খবরই মানুষের অগোচরে থেকে যেত। এখন পরিবর্তত সময়। এমনিতেই মানুষ বিশাস করতে ভালবাসে যাহাই মুদ্রিত তাহাই সত্য। আর চোখের সামনে যা ভেসে ওঠে, তাকেতো বিশাস শুধু নয় মুখে মুখে প্রচার করতে ভালবাসে। যা চাপা যায় না টেলিভিসন এ প্রতি নিয়ত দেখিয়ে দেওয়া যায়। টেলিভিসনে অনেক গল্পও তৈরী করা যায়। একটা উদাহরন না দিয়ে থাকা যাচ্ছে না।

এরাজ্যে ২০০৯ এর সংসদীয় নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে কংগ্রেসের আসন সমঝতা হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতা আসনটিতে। ভোট শুরুর থেকেই একটা পার্টি চ্যানেল প্রচার শুরু করল যে মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের মতবিরোধ হয়েছে। অতএব সংসদীয় কোন বুথেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস দলের কোন প্রতিনিধিকে জেতে দিলেন না। কত বড় মিথ্যে দেখুন। ফলপ্রকাশের পরে দেখা গেলো মমতা ২ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জিতলেন। তৃণমূল এক থেকে উঠে এল উনিশে। সংবাদপত্র এবং ভিসুয়াল মিডিয়ার তখন কি আহ্লাদ। অথচ ভোটের আগে অধিকাংশ চ্যেনেলই মাংসাশী হয়ে উঠেছিল।

সুশীল সমাজের কিছু লোক যখন বসতেন চ্যানেলে তখন তাদের ভাগ্যে জুটতো ব্যাঙ্গ কৌতুক। অ্যাঙ্কর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন করতেন। এখন আবার সেগুলো এই রাজ্যে শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সৎ ভাইয়েরা একদা যারা তৃণমূল থেকে ভোটে জিততেন এখন তৃণমূলচ্যুত হয়ে চব্য চোষ্য করছেন। এখন এদের দাপট শুধু সান্ধ্যবাসরে টেলিভিশনের দুই তিনটে চ্যানেলে। স্থানীয় চ্যানেলগুলোর সেই বুদ্ধি দৃপ্ততা নেই।

জাতীয় পর্যায়ের ইংলিশ চ্যানেলগুলো সিপিএম এর স্তাবক হয়ে ছিল। এরা বামপন্থীদের কিছুটা ছার দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে গেছে সমানে। এখনকার দু চার জন যারাই ইংলিশ এ অভ্যস্ত তাদের প্রায় বলতে সুযোগ দেওয়াই হয়নি। কয়েকটি বাংলা টেলিভিশনের অ্যাঙ্কর-এর বুদ্ধি বৃদ্ধির কাঙ্গালপনায় মিডিয়ার বিচারকের ভূমিকা নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলেও লোডেড প্রশ্ন করার ওস্তাদি রয়েছে।

এখন চলছে অপছন্দের সরকারের বিরুদ্ধে মিডিয়া সন্ত্রাস। সাতন্ত্রবোধ সম্পন্ন মানুষ এই সব লোডেড প্রশ্নে বিরক্ত হয়। কিন্তু বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীদের টেলিভিশন অ্যাঙ্করদের প্রতি কত প্রশ্ন বৃষ্টি। লোডেড প্রশ্ন অর্থাৎ প্রশ্নের ভেতরেই উত্তরটা দেওয়া আছে। কর্পোরেট মালিকের একটা বিশেষ অ্যাজেন্ডা পূর্ণ করার লক্ষ্য আর কি! আপনি যদি সেই লক্ষ্যের বিরোধীতা করেন তবে অংশগ্রহণকারী সুন্দর সুন্দর সাজপোশাকপরা বাবু-বিবিদের আপনার কথা বা যুক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বার উৎসাহ দেওয়া হয়। আপনার গলা তখন আর শোনা যাবে না। নিতান্ত নিত্য নিজের মুখটা টেলিভিশনের পর্দায় দেখানোর জন্য আপনার বসে থাকা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। অর্থাৎ আপনাকে সামনে বসিয়ে সরকার এবং সরকার পক্ষের লোকই আক্রমণের লক্ষ।

সংবাদ মাধ্যমগুলোর নিশ্চয় আধিকার আছে গণতন্ত্রবিরোধীদের ওপর পরোক্ষ খবরদারি করার। কিন্তু আসলে দেখা যায় পছন্দের মানুষ, নেতা নেত্রী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে তল্লাই দেওয়া। আর অপছন্দের মানুষজনকে সমালোচনার ঝড়ে মানুষের চোখে ভিলেন বানিয়ে দেওয়া।

বিগত বহু বছর ধরে এমনটাই চলে আসছে। সংবাদমাধ্যমের মালিকরা আসলে নির্লিপ্ত থাকেন না, যখনই তাদের স্বার্থে ঘা লাগে অথবা যা চান প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তা না পান। খবর ঠিক খবরের মত করে প্রকাশ্যে আনতে হয় - যা আমরা পাশ্চাত্যের গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে দেখে থাকি। সেখানে সাংবাদিকরা মিডিয়া মালিকের সঙ্গে বিদেশের মাটিতে বসে পাঁচ বা সাত তারকা হোটেলে থেকে খানাপিনা করেন না। আর করলেও যা সত্যিকারের খবর তাতে প্রতিমার গায়ের গর্জনতেল মাখিয়ে জনারণ্যে নিয়ে আসেন না। আমাদের মত অনুন্নত দেশে যা ঘটে সাংবাদিকরা তা না বলে কি ঘটতে পারে তাই নিয়ে মাতামাতি করেন।

বাংলা ভাষার পত্রিকাতে একদা বিশিষ্ট এক সংবাদপত্র অন্তঃরদ্বন্দ্ব শুরু করেছিল। তা কিন্তু তার ব্যাক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানগত রোষ থেকে। এখন সময়টা পাল্টে গেছে, এখন অন্তঃরদ্বন্দের নাম করে অধিকাংশ সময়েই খবরকে নিজের বা অন্য কারোর স্বার্থে ঘটনাকে বাঁকিয়ে চুরিয়ে দেখানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। নানান অস্বাচ্ছন্দের মধ্যে থেকেও বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গ্রাম বাংলার রাস্তা ঘাট, জলের ব্যবস্থা এবং প্রায় সব স্থানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। এটাকে অস্বীকার করা যাবে না। আইলার সময় কিছু ত্রানসামগ্রী নিয়ে বাসন্তী হাইওয়ে হয়ে সুন্দরবন অঞ্চলে যেতে হয়েছিল। সে যে কি নরক এখন তা কেউ বিশ্বাস করবে না। সুন্দরবনে ১০২টি দ্বীপ যেখানে মানুষ বসতি ৫৮টা দ্বীপে। জন সংখ্যা ৫০ লক্ষের ওপর। যে কেউ গিয়ে দেখে আসতে পারেন। একটা জায়গা থেকে আর একটা জায়গায় যাওয়ার রাস্তা তৈরি হয়ে গেছে। স্বাস্থকেন্দ্রে এখন আর শিয়াল চড়ে বেড়ায় না। এখানে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মনটুরাম পাখিয়ার নাম করতে হয়। আর নিজের গ্যাঁটের পয়সা খরচ করে একদল ডাক্তার নিয়ে ডঃ সুব্রত মৈত্র ওই সব জায়গায় যাতায়াত করেন। এই সব ইতিবাচক খবর কোনও সংবাদমাধ্যমে ধরা পরে না। কেন্দ্রীয় সরকার চাকরের মত সিবিআইকে ব্যাবহার করে নিজেদের স্থান পাকা করছে। বাংলা সংবাদমাধ্যাম এখন অতি তুচ্ছ ঘটনায় সিবিআই-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map