M3 Views

সেলিব্রিটি হয়ে ওঠার কৃতকৌশল

অমিয় চৌধুরী  | August 26, 2014

চলতে চলতে জীবন অনেক কিছু শেখায়। জীবন সতত সুখের নয় অবশ্যই। এটা মেনে নেওয়াই ভাল। এই যেমন একদিন যারা পথ চলার সঙ্গী ছিল। এখন আর তেমন চলতে হয় না। অতএব সঙ্গে যারা চলছিল তারা অধিকাংশ থেমে গেছে। কোথাও না কোথাও তারা একটা ভরকেন্দ্র খুঁজে নিয়েছে। তবে তারাও একটা ভয় নিয়ে থাকে। কেননা ভাল দাবাড়ুরা অনেক সময় তাদের সফল দানে অন্যের দাবার চালকে গুলিয়ে দিতে পারে। এসব কথা মনে আসে প্রায়শই। তবে সেই ভাবনা হঠাৎ আসে হঠাৎই যায়। সুতরাং এগুলোকে ডাইরির পাতায় লেখা যায়। অন্যত্র লিখতে গেলে অনেক ভাবনা ছিন্তা করতে হয়। অর্থাৎ তার প্রতিক্রিয়া। ভাল, মন্দ আর কি! এই ধরনের একটা লেখা “একটি বিস্ফোরক শ্লোগানের বাস্তবায়ন” লিখতে হয়েছিল মধুময় সম্পাদিত বই “পরিবর্তন ০১১” নামক একটি বই এ। ফল ভাল হয় নি। নিকটজনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অনেক দিন গেছে চুপ চাপে। এক সময় যারা আমাদের সঙ্গে হাঁটছিল, হয়ত আরও কিছু না পাওয়ার যন্ত্রণায় অন্য রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছে। অবশ্য এর উল্টোটাও হয়েছে। যারা পুরোপুরি রাজনীতির লোক অবশ্যই খুব জানাশোনা তাদের কিন্তু খুব একটা নড়ন চড়ন হয় নি। এঁরা অবশ্যই মান্যতা পাবেন। তবে এঁদের সঙ্গে বর্ণচোরা যারা ছিল, তারা এখন হালে পানি না পেয়ে, নানা রকমভাবে এবং এক অর্থে চতুরতার সাহায্য নিয়ে বিরোধী রাজনীতিক সমাজকে আক্রমন করছেন এবং কিছু রাঘববোয়াল খরিদ্দারও পেয়েগেছেন।

এই লোকটিকে তাঁর কাজকর্মকে অগ্রাহ্য করেছেন অনেকেই। কিন্তু স্পর্শকাতর মানুষ এখন আর তা পারছেন না। কারণ এই ভদ্রলোক তথাকথিত কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র এঁকে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। আর বোকা একদল পুলিশ কর্মচারি রাজার চেয়ে বেশি অনুগত্য দেখাতে গিয়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিতান্ত ছোটখাটো শিক্ষককে জন সমখ্যে তুলে দিলেন। প্রতিপক্ষ নামক সংবাদ চ্যানেলটি এঁকে সামনে এনে শূন্য ক্যানভাসে ন্যায়ের প্রতিবাদী নায়কের রূপ দিয়ে দিল। ভাবলাম লিখব না, কিন্তু গতকাল অর্থাৎ ২৩শে অগাস্ট ওঁর কর্মকীর্তি দেখে ওঁকে নিয়ে লিখতেই হলো। কলকাতায় এবং আশে পাশে আবার একটা দুটো করে প্রতিবাদী মঞ্চ গড়ে উঠছে। এতদিনে সবার জানা হয়ে গেছে। প্রতিবাদী নির্গলিত অর্থে প্রতিপক্ষ মঞ্চকে কে বা কারা মদত দিচ্ছে। কার্টুনের বা ব্যাঙ্গচিত্রের নতুন সংজ্ঞা এবং সৌন্দর্য তত্ত্বের কল্পনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সাধারণ শিক্ষক সিপিএম এর মদত নিয়ে কলকাতার এলিট সার্কেলে দৈত্যের আকার নিলেন। একদিনের জেল থেকে ফিরে এসেই মুহূর্তেই সেলিব্রিটির আসন দখল করলেন। চ্যানেলে চ্যানেলে অথবা তৃণমূল দলের বিরোধী মঞ্চে এখন ওঁর জবরদস্ত খাতির এবং অস্তিত্ব। সে কামদুনি, বনগাঁ হোক বা ডায়মন্ডহারবার সাগরিকা লজ। ওঁদের মিটিং কারা যেন পণ্ড করলো। ওঁরা বললেন তৃণমূলরা। বোঝা গেলো না ঠিক।

আজ ২৪শে অগাস্ট কোলকাতার ৩২৫তম জন্মদিনে ওঁরা ডায়মন্ডহারবারে এমপি অফিসে গেলেন প্রতিবাদী পত্র নিয়ে। রবিবার হওয়ায় এমপি ফোনে ওঁদের বলেন কাজের দিনে আসুন। নেতা কে? না সেই অম্বিকেশ মহাপাত্র! পাত্র মহা বৃহৎ আকারের হলে খুব বেশি পদার্থই ধরে, সে গোবরই হোক বা ঘাস। অম্বিকেশ মহাপাত্র বোধ হয় কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়া খেলা এখনো আয়ত্তে করতে পারেন নি। যে তথাকথিত ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে আলোচনা সেটা কেমন ছিল? অম্বিকেশবাবু তাঁর ব্যাঙ্গচিত্রের সদ্য গজিয়ে ওঠা নন্দন তত্ত্বের পরিচয় রাখলেন। সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায় তাঁর বাবার সোনার কেল্লা ছবির একটা দৃশ্য চুরি যাওয়ার অভিযোগে অম্বিকেশের বিরুদ্ধে কোর্টে না গিয়ে তাঁর উদারতা দেখিয়ে দিলেন। ওপরের একটি গোলোকে দাঁড়িয়ে নীচের দ্বিতীয় গোলোকে স্থিত দীনেশ ত্রিবেদির দিকে তাকিয়ে বলছেন “ও দুষ্টু” আর বাঁপাশে তৃতীয় গোলোকে দাঁড়িয়ে মমতা তির্যক চিহ্ন দিয়ে বললেন “ভ্যানিশ”। মুকুল, দীনেশ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ গুলো কিন্তু অবিকল। আমাদের চিরাচরিত অভ্যাস কার্টুনের বাঁকানো চোরানো হাসির উদ্রেককারী মুখ দেখাটা ব্যাঙ্গচিত্রের সত্য আর কল্পনা মেশান ছবিতে অপূর্ব হাসি উদ্রেক করা আনন্দ দেয়। কিন্তু সেই কার্টুনে ব্যবহৃত মুখগুলির প্রতি নেতিবাচক কোন অনুভূতি আসেনা। বরং কার্টুনিস্টের প্রতি প্রশংসায় উচ্চসিত হই তার অনাবিল আনন্দ দেওয়ার আনন্য সাধারণ শৈল্পিক ক্ষমতায়।

অম্বিকেশ কিন্তু ওই পথে হাঁটলেন না। মমতাদের প্রতি একটা ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করে ওঁর পার্টির নেতাদের প্রশংসা কুড়াতে চেয়েছেন। এবং প্রমাণ করেছিলেন, যে কোন উপায়ে নতুন শাসক গোষ্ঠীকে অপদস্থ করা। এখানে সৌন্দর্য, ন্যায় এবং নন্দন চর্চার কোন বিষয়ই নেই। কেননা কম্পিউটার ব্যবহারের মত দক্ষতা উনি এখনো অর্জন করেননি। কিছুই এসে যায় না! যেমন করেই হোক ক্ষমতাসীনদের আক্রমণ এবং ওঁর নিজের দলের কাছাকাছি আসা। উদ্দেশ্যটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একজন সেলিব্রিটি হয়ে ওঠা। এবং নিপাট ভদ্র মানুষের গোচরে নিজেকে তুলে ধরা। আশ্চর্য লাগে যখন দেখা যায় চম্‌স্কির মত উন্নত মানের মানুষের কাছেও ওঁর প্রশংসা কুড়ানো। অবশ্য চম্‌স্কির কাছে রঙ মাত্র দুটি - সাদা অথবা কালো। এটা বঙ্গীয় ফ্যাসিবাদী কম্যুনিস্টদের চিরকালীন অভ্যাস। তবে অবশ্য হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান মহামাননীয় অশোক গঙ্গোপাধ্যায় অম্বিকেশের প্রতিভা বুঝতে পেরেছিলেন। না হলে রাজ্য সরকারের পুলিশের অবিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারকে, অম্বিকেশকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করে দেন। আরে! এই সব ক্ষেত্রে উনি তো পুলিশকে দু-দশ টাকা জরিমানা করে দিলেও পারতেন! কিন্তু অশোকবাবুর অন্য এজেন্ডা ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে রায় সম্বল করে অম্বিকেশবাবু টি ভি চ্যানেলের হিরো বনে গেলেন একদিনেই। অথচ অম্বিকেশের উদ্দেশ্যটা একেবারেই রাজনৈতিক। যদিও ওঁর স্যাঙাৎরা তা স্বীকার করে না।

এখন যেখানেই কিছু ঘটছে - সে সিপিএম-তৃনমূলের কাজিয়া, দলীয় অদলীয় কারনে খুন রাহাজানি বা ধর্ষণ- সব ব্যপারেই প্রতিপক্ষ গড়ে উঠছে আর শাসকদলের বিরুদ্ধে অম্বিকেশ মহাপাত্র নিজেকে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছেন। কয়েকমাস বা বছরখানেক আগে কে চিনতো বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য কেমিস্ট্রি শিক্ষকের মধ্যে মধ্যমেধার অম্বিকেশ মহাপাত্রকে? এর সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে কোন এক গ্রাম্যজীবনের শিলাদিত্য। মুখ্যমন্ত্রী, দর্শকদের একটা অংশে গোলমাল করার জন্য, বলে উঠেছিলেন “ও মাওবাদী”। আর যায় কোথায়! মানবাধিকারের স্বনিযুক্ত রক্ষাকর্তারা চলে যান পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকারের চেয়ারম্যান অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে। আর উনিও লঘুপাপে বা অপাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দু লক্ষ টাকা জরিমানা করে দিয়ে শিলাদিত্যবাবুকে পাদপ্রদীপে নিয়ে আসেন। এখন এরাই সেলিব্রিটি বা হিরো। সর্বঘটে ঘুরে বেড়ানো অসীম চাটুর্জি হোক, সুজন হোক যখনই কোন প্রতিবাদী সভা করছেন, সেখানেই হাজির করছেন নয়া সেলিব্রিটি অম্বিকেশ আর শিলাদিত্যকে। আর কিছু না হোক অম্বিকেশবাবুর সেলিব্রিটি মর্যাদা তো ঝুলিতে এসে যাবে। আর কোমর ভাঙ্গা সিপিএমও উঠে দাঁড়াতে পারবে ভাবছে। এটাই যা লাভ!

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map