M3 Views

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, অছাত্র আন্দোলনে বিক্ষোভ - এরা কারা?

অমিয় চৌধুরী  | October 10, 2014

এই সেপ্টেম্বর মাসটায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছু ঘটলো। যা যা ঘটেছে সেগুলকে প্রায় বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কিছু ছাত্র এবং সঙ্গে অনেকে অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে থেকে রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দিতে গেলো। সেই মিছিলকে আটকালো পুলিশ মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির কাছে। দাবি করা হলো মিছিলে স্বতস্ফূর্তভাবে ত্রিশ হাজার মানুষ পথে হেঁটেছিল। হয়ত ত্রিশ হাজার লোক ছিল হয়ত ছিল না। মজাটা হলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়জোর দুই তিন হাজার ছাত্র ছাত্রী থাকলো অথচ এত ছাত্র ছাত্রী কোথা থেকে এলো? তার আগের আগের দিন ভাইসচ্যান্সেলারের ঘর ঘেরাও করে রেখে দেওয়ার সময়ও প্রেসিডেন্সির কয়েকজন ছাত্রকে, যারা নাকি প্রফেশনাল স্টুডেন্ট অ্যাজিটেটর। দেখা গেছে এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশাল, মাও, ছাত্রপরিষদ এবং ছাত্র ফেডারেশনও রঙ লুকিয়ে ছিল- সে বিষয়ে সন্ধেহের অবকাশ খুব কম।

ছাত্ররা দীর্ঘ রাত অবধি ঘেরাও জারি রেখেছিলো। কিছু এক্সিকিউটিভ মেম্বার, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর সিদ্ধার্থ দত্ত, যিনি আবার বামফ্রন্ট আমলের থেকেই উচ্চপদস্থ, একটা সময় মিটিং থেকে বেরিয়ে গেলেন। ছাত্ররা পরবর্তী কালে দাবি করলো উপাচার্য্য, সহ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। অসুস্থ উপাচার্য কয়েকদিন পরে কাজে যোগ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সহ-উপাচার্য্য সিদ্ধার্থ পদত্যাগ করলেন। কেউ এই বিষয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন তুলতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী উৎসবমুখর ছিল। সে সময় একটি মেয়েকে একটু নির্জনে পেয়ে পাশব প্রবৃত্তির আক্রমনে ১৪/১৫ জন ছাত্র মেয়েটিকে হস্টেলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তার জামা-টামা ছিঁড়ে দেয়। যাকে বলা হয় শ্লীলতাহানি। উপাচার্যের কাছে ওই মেয়েটি তদন্ত দাবি করে- অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে ওর প্রতি ন্যায় বিচার করা হোক। ছাত্ররা আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারতো। সেক্সসুয়াল হ্যারাসমেন্ট কমিটি- প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই বাধ্যতামূলকভাবে থাকে, কী ধরণের সিদ্ধান্ত নেয় তার ওপর।

কিন্তু কিছু ছাত্রের তা পছন্দ নয়। অতএব ঘেরাওয়ের পদ্ধতি গ্রহণ করে অপছন্দের উপাচার্যকে যদি একটু কড়কে দেওয়া যায়! যে ছাত্রগুলো শ্লীলতাহানি করতে উদ্যত হয়েছিল তারাতো বাইরের লোক বা ছাত্র নয়! ওই মেয়েটির কাছে দু-চার জনের নাম জেনে ওরাইতো একটু পিটুনি-টিটুনি দিয়ে থানায় দিয়ে আসতে পারতো। তারা সেই দিকটা না ভেবে উপাচার্যের ওপর তাদের ঝাল ঝারতে রাজনৈতিক কর্মীর মতো আচরণ দেখালো। কেননা উপাচার্যের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে ওদের বিস্তর ফারাক। ওদের রাগে ধূপ-ধূনো দেওয়ার লোকও কিছু বিদ্যালয়ের চত্বরে ঘোরা ফেরা করতে দেখা যায়। বিখ্যাত হয়ে ওঠা অ-কার্টুনিস্ট সিপিএম এর অম্বিকেশ মহাপাত্র, এমন কী সেই ভদ্রলোক যার নাম ঋতব্রত, যিনি দিল্লীর যমুনা ভবনের প্রবেশ পথে সিপিএম এর ফ্ল্যাগ-লাঠি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এবং মুখ্যমন্ত্রীর পথ আগলে একটু একটু আমিষ রাজনৈতিক আন্দোলনের হোতা ছিলেন, তাঁকে একবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দেখা গিয়েছিল ঠিক তার আগেরদিন।

ঘেরাওয়ের রাত্রে উপাচার্য পুলিশ ডেকে বেরুতে চেষ্টা করে। ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়, উপাচার্য ভয় পেয়ে যান। তখন তুমুল বিবাদ বাধে। ছাত্ররা যেমন মার খায় পুলিশের খোলা হাতে, পুলিশকেও পাটকেলের আঘাত সহ্য করতে হয়। তৃণমূল ছাড়া সব রাজনৈতিক দল এককাট্টা হয়ে যায়। ধন্দ তৈরি হয় পুলিশ সেদিন রাত্রে ছাত্রদের ওপর লাঠি চালিয়েছিল কিনা। সব টিভি চ্যানেল দেখল পুলিশ খালি হাতে ঠেলাঠেলি করছে। অন্য একটি চ্যানেল যা নির্লজ্জভাবে বিতর্কের সান্ধ্যজলসা বসায় তারা দেখালো একটা লাঠি মাত্র উঁচিয়ে পুলিশ এগোচ্ছে। এ সব ধন্দ তো একেবারেই থাকতো না যদি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সিসি ক্যামেরা লাগাতে দেওয়া হতো। কর্তৃপক্ষ তো চেয়েছিল, বিজ্ঞপ্তি জারিও হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীরাই বেঁকে দাঁড়ালো। সিসি ক্যামেরা চলবে না। তার কারণ সহজ। অভিজ্ঞতা থেকে বলা। সন্ধে গাঢ় হলে ছাত্র-ছাত্রী যুগলে কাকধোয়া অন্ধকারে অথবা সিঁড়ির আড়ালে বসে যৌবনের পাঠ নিচ্ছেন। ওদের ভেতরে আঠারোর গ্রাহ্য না করার প্রবণতার ঢল। যারাই সন্ধার পরে ওই বর্ণময় ক্যাম্পাসে ঢোকেন তাদের কাছে ওগুলো আর নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো সন্ধের পর ছাত্র-ছাত্রীরা কেন থাকবে খোলা ক্যাম্পাসের চত্বরে? ওদের তো ল্যাবের কাজও থাকে না! ওখানে কিছু ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত আসে শুধু চা খেতে নয় বোধ হয়! কেননা ওরা তো উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে মেয়ে। চা নয়, ওখানে অন্য কিছু খেতেই আসে।

তৃণমূলের সাংসদ হয়তো বলার ঝোঁকে রাজনীতির ভাষায় বলে ফেলেছিলেন “মদ গাঁজা চরস বন্ধ” ইত্যাদি। কথাটা যে খুব অন্যায় ছিল বলা যায় না। মহামিছিলের দিন ছাত্র অছাত্র আর বেশ কয়েক বছরের চালু কথা বিদ্বজ্জন মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। টেলিফোন মারফৎ প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন কৌশিক সেন আর এক দু-নৌকায় পা দেওয়া গোলগাল হাসিমুখ মহিলা ঔপন্যাসিক। ছিলেন টিভি সিরিয়াল করা চন্দন সেন, স্বস্তিকা, সুমন। আরও আশ্চর্য এই সেদিনও মমতার কাছ থেকে বহুভোগ্য বর্তমানের কংগ্রেস সদস্য হেরে যাওয়া চিত্রশিল্পী একজন। তৃণমূল ছাড়া সব দলের মানুষজন হেঁটেছিলেন রাস্তায়। ওদের মুখে বুলি ছিল- “কালীঘাটের ময়না/আয় মমতা দেখে যা/ যাদবপুরের ক্ষমতা।” এতো বড় রাজনীতির- এই ধরণের শ্লোগান পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা দেয় না।

তবে আর এক দলের শ্লোগান- এমন স্লোগান তৈরি করেছিলো সিপিএম এর তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী যিনি এখন প্রয়াত। ভগ্নীসমা মমতার প্রতি ভদ্রতা বসত কোন বিশেষণে ভূষিত না করে ওঁর মিছিলের লোকজনদের দিয়ে শুধু বলাতেন- “আয় মমতা দেখে যা/সিপিএম এর ক্ষমতা।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও মুখ্যমন্ত্রী হন নি। যাদবপুরের ছাত্র আন্দোলন শুধুমাত্র সৎ ছাত্রদের ছিল না। আর কিছু ছাত্রেরও আন্দোলন হলে প্রশ্ন জাগে এরা কারা!

(পরবর্তী পর্যায়ে)

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map