M3 Views

প্রচার মাধ্যম এবং তাদের মালিকরাজ

অমিয় চৌধুরী  | January 20, 2015

বাজারী পত্রিকার সব সংবাদপত্র এমনকি বর্তমান পত্রিকা হাতে সোনার থালা পেয়ে গিয়েছে, এর পেছনে মোদী ভাইয়ের লাড্ডুও থাকতে পারে! বোধ হয় এখন ওগুলোর বিক্রিও বাড়ছে। শাসক দলের বিরুদ্ধে লেখার একটা স্বার্থ ও প্রয়োজনীয়তাও আছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়। কিন্তু গণতন্ত্রে যেটা নিন্দনীয় সেটা হল ব্যক্তিগত অসূয়া থেকে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনকে লোক চক্ষে হেয় করার চেষ্টা বা প্রচেষ্টা। আজ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সংবাদপত্র এবং ভিস্যুয়াল মিডিয়া- টিভি চ্যানেলগুলোতে তাই দেখছেন। যে বাজারী পত্রিকা গোষ্ঠী বা সংবাদ মাধ্যম ২০০৯ সাল পর্যন্ত টাটা রতন এবং তাঁর চিনেবাদাম মার্কা শিল্পের জন্য কখনো নাকিকান্না কখনো তর্জন গর্জন করেছে, হঠাৎই একদিন তারা ভোল পাল্টে বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোল্লাই দিতে শুরু করলো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় দুবছর আড়াই বছরের মধ্যেই তারা পালটি খেয়ে মমতার রক্তের আস্বাদন পেতে তথাকথিত তাবড় তাবড় রাজনীতিক এবং প্রচারলোভী স্বঘোষিত রাজনীতির আধাশিক্ষিত বিশ্লেষক দিয়ে তৃণমূল বিরোধী নানা কথা বলাচ্ছেন।

আমরা যারা সমাজের মধ্যবর্তী স্তরের তারা কেচ্ছা শুনতে বা খেউর করতে ভালবাসি। একটা টিভি চ্যানেলের কথা বলি। চেহারা সুন্দর, আরো সুন্দর পোষাকে সেজেগুজে নাকিসুরে প্রত্যেক সন্ধায় খেউড়ের আসর বসান। ওঁর মালিক এই ভদ্রলোককে বহু টাকা বেতন দিয়ে তৃণমূল এবং মমতা বিরোধী মানুষজনকে ওঁর প্রশ্ন এবং বক্তব্য সমর্থন কল্পে ডেকে আনেন, শুরু হয় কেচ্ছা ঘণ্টাখানেক। আর একটি নতুন চ্যানেলে এক অর্ধ শিক্ষিত সূত্রধর বসে কয়েকজন টেবিলের মানুষজনকে একমুখী কথা বলাতে চেষ্টা করেন। যুক্তিতক্ক, ঘণ্টা খানেক। আসলে এঁরা মোটা বেতনভোগী পুতুল প্রজাতির। সুতোটা থাকে মালিকের হাতে। তিনি যা ভাববেন বা করতে বলবেন, এই পুতুল প্রজাতি তাই করবেন। এঁরা সঞ্চালক হিসেবে প্রশ্ন করার আগেই প্রশ্নটার মধ্যে মালিকের নির্দেশে উত্তরটা ভরে দেন। দু একজন অন্যমতের যাঁরা বসেন তাঁরা বিরূপ উত্তর দিতে থাকলে অন্য অংশগ্রহণকারীদের লেলিয়ে দেন অথবা একটা বিজ্ঞাপন বিরতি নিয়ে নেন। তার পরে অনুষ্ঠান শেষ হলে মানহানির দায় এড়াতে একটা ডিক্লেয়ার দেখান। কী, না অনুষ্ঠানে প্রচারিত মতামত সবই অংশগ্রহণকারীদের। অর্থাৎ মতামতের জন্য টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক এবং সঞ্চালক দায়ী নন। কী বিচিত্র চালাকী দেখুন! অংশগ্রহণকারীদের সঞ্চালক তার মালিকের মতামত পরোক্ষভাবে, কখনো বা প্রত্যক্ষে বাজারী চ্যানেলের নাকিস্বরের সুস্বজ্জিত সঞ্চালক বলে ওঠেন- ‘ক্যেয়া বাত’।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা বা উঠতি নেতা খুবই খুশি হন। টাকা পয়সা খরচ না করে একইভাবে আত্ম দর্শানো এবং দলের প্রচার হয়ে যায় সম্পূর্ন নিঃখরচায়। আর যদি এঁদের বাইরে কোন অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়, অংশগ্রহণকারীরা চ্যানেলের পয়সায় চার তারকা/পাঁচ তারকা বিশিষ্ট হোটেলে রসে বসে থাকার সুযোগ পেয়ে যান। আর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মুখে ফেসওয়াস আর লিস্টারিনে পরিষ্কৃত হয়ে চ্যানেলে বসে মনে মনে বলেন “আমাকে দেখো-আমাকে দেখো”। আচ্ছা, এরা লেখাপড়ার সুযোগ পান কখন! অন্যের লেখা মানপত্র ব্যবহার করে নিজেদের পাণ্ডিত্য দেখাতে গোবধের আনন্দ উপভোগ করেন! পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থক এবং রাজনীতিকদের সান্ধকালীন এটাই বোধহয় একমাত্র বিলাসিতা।

চ্যনেলের মালিক, আবার একই সন্ধে বাজারী পত্রিকাগুলোর মালিক মনে মনে ভাবেন “কেমন দিচ্ছি রাজ্যচালক এবং নেতা নেত্রীদের”। আহা একদিন না একদিন বশ্যতা স্বীকার করতেই হবে। আমি টাকা দিতে পারি। দেশ বিদেশ ঘোরাতে পারি এবং ৩৮/৪০ হাজার টাকা দামের হুইস্কি খাওয়াতে পারি। বোতল দিতে পারি। “আমিইতো অর্থাৎ টাকাই তো রাজ্য চালিকা শক্তি”। বহুত্ববাদী পাশ্চাত্ব্যের সুসংস্কৃত গণতান্ত্রিক দেশ হলে মানুষ (সাধারণ) এঁদের মুখে থুতু দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের মত দেশ অনুন্নয়ন নিয়ে এবং পরমুখাপেক্ষী হয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই এই সব সংবাদ মাধ্যম মজা বিতরণ করে প্রায়শই অশ্লীল হয়ে উঠতে পারে। প্রতি নিয়ত দেখুন আসল খবরের চেয়ে তার বিকৃত ব্যবহারই মালিকদের একমাত্র ব্যবসা হয়ে উঠছে। এইসব পত্রিকা আর চ্যানেলগুলো বর্তমানে সারদা কেলেঙ্কারিতে অর্ধ সত্য আর মিথ্যার ব্যাবসা শুরু করে মানুষকে চমকে দিচ্ছে। আপাতত এমনটা মনে হচ্ছে। এদের একমাত্র লক্ষ্য রাজ্য সরকারকে টলো মলো করে দেওয়া। বামফ্রন্ট আমলের সেই পুরনো খেলা এর কী! কেননা মানুষ কেচ্ছা শুনতে মজা পায়। একটা পত্রিকা গোষ্ঠী তাদের চ্যানেল সহ নানা ভেট দিয়ে রাজ্য সরকার আর তার মুখ্য কে কিনে নিতে চায়!

এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা বলি। যতদূর মনে পড়ে ২০০৯ এর সংসদীয় নির্বাচনের আগে সর্বভারতীয় এক ইংরাজী পত্রিকা অফিসে যেতে হয়েছিলো। বেশ কিছু বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে গল্পগাছা করবার পর বন্ধু রেমিডেন্স এডিটরের ঘরে ঢুকি। আমার কাজটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওঁকে বলেছিলাম- দেখেছেন বাজারী পত্রিকা গোষ্ঠীর মালিক কি ভাবে সিপিএম এর মুখ্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কেনা গোলামে পরিণত হয়েছেন। ওঁদের পত্রিকায় প্রায় দ্বিতীয় শ্রেনীর এক রাজনীতির মানুষকে কেমন শিল্পের রাজা রাজা বলে তোল্লাই দিচ্ছে। উনি হেসে বললেন ব্যাপারটা কিন্তু ঠিক উলটো। পত্রিকা গোষ্ঠী আর তাদের চ্যানেলই বরং বুদ্ধবাবু আর তার সরকারকে কিনে ফেলেছে। দেখছেন না ওদের চ্যানেল এর কী রমরমা চন্দন নগর, টাটা রত্নের সিঙ্গুর, দার্জ্জিলিং এ ছুটছে “সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কল্পে ধনতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করবার আবেদন নিয়ে (বুদ্ধবাবুদের সেই সময়ের বাণী)। আসলে বুদ্ধবাবুরাই পত্রিকা গোষ্ঠীর কাছে বিক্রীত হয়ে আছেন। কথাটা কিন্তু সর্বাংশেই সত্যি। একটা বিখ্যাত পত্রিকা গোষ্ঠী কি ভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত সরকারের কিছু সত্যের আবরণে মিথ্যা আর কুৎসার অবতারণা করে যাচ্ছে। সন্ধেহ হয়। বুদ্ধবাবুদের মতো বর্তমানের মুখ্য কি পশ্চিমবঙ্গের অর্থাৎ কলকাতার সবচেয়ে ভালো জায়গায় ওদের সস্তা দামে কিছু জমি জায়গা দিচ্ছে না!

< Back to List

 
Comments (0)
 
 
Post a Comment Comments Moderation Policy
 
Name:    Email:
 
Comment:
 
 
 
Security Code:
(Please enter the security code shown above)
 

Comments and Moderation Policy

MaaMatiManush.tv encourages open discussion and debate, but please adhere to the rules below, before posting. Comments or Replies that are found to be in violation of any one or more of the guidelines will be automatically deleted.

  • Personal attacks/name calling will not be tolerated. This applies to comments or replies directed at the author, other commenters or repliers and other politicians/public figures. Please do not post comments or replies that target a specific community, caste, nationality or religion.

  • While you do not have to use your real name, any commenters using any MaaMatiManush.tv writer's name will be deleted, and the commenter banned from participating in any future discussions.

  • Comments and replies will be moderated for abusive and offensive language.

×

© 2017 Maa Mati Manush About Us  |  Contact   |   Disclaimer   |   Privacy Policy   |   Site Map